Saturday, September 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাকসু নির্বাচনে নিরাপত্তায় থাকবে সেনাবাহিনী-বিজিবি

সেনা-বিজিবি মোতায়েন নিয়ে শিক্ষার্থী, প্রার্থী ও ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০৩:৩১ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দিবাগত রাতে জাকসু নির্বাচন কমিশনের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন ও আগে-পরের দুই দিনসহ মোট তিনদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সেনাবাহিনী-বিজিবির ভূমিকা কেমন হবে?

সেনা মোতায়েন চেয়ে গত ১৩ আগস্ট সেনাপ্রধান বরাবর চিঠি পাঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, চিঠিতে নিরাপত্তাজনিত বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রমতে, ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে সহিষ্ণুতার অভাব এবং যেকোনো সংকট মোকাবেলার আগাম প্রস্তুতির স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত। 

নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা থাকবেন ২০ জন করে ৪০ জন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করবেন। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকগুলোতে  পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষত ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন মীর মশাররফ হোসেন হল ফটক, জয় বাংলা গেট (প্রান্তিক গেট) ও বিশমাইল ফটকে থাকবেন পুলিশ সদস্যারা। প্রতি ফটকে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা হবে অন্তত ১০-১৫ জন।

এছাড়াও কমিশন সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের প্রতিটি কেন্দ্রে পাঁচজন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও নির্বাচনী বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচন কমিশনের সদস্য ও জীববিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, “জাকসু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন জোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুন্দর নির্বাচন আমরা উপহার দিতে পারব বলে আশা করছি।”

প্রক্টর রাশিদুল আলম বলেন, “ক্যাম্পাসে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে। তারা টহল দেবে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও স্ট্রাইকিং ফোর্সের ভূমিকায় থাকবে।”

অংশীজনদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

এদিকে জাকসু নির্বাচনে সেনা-বিজিবি মোতায়েন নিয়ে শিক্ষার্থী, প্রার্থী ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কোনো কোনো প্রার্থী ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সেনা মোতায়েন চাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। আবার কোনো কোনো প্রার্থী, সংগঠন ভিন্নমত জানিয়ে একে প্রশাসনের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদে (বাগছাস) বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। কারণ, ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার মতো আশঙ্কা আছে। সে ক্ষেত্রে প্রশাসন পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সহায়তা নিলে সেটা ইতিবাচক।”

গণ-অভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক ও ভিপি প্রার্থী আব্দুর রশিদ বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনা মোতায়েনের দরকার হলে সেটা প্রশাসন করতে পারে। সেক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে সেনা মোতায়েনের কোনো আইনকানুন থাকলে সেটাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।”

অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। তারা সেটা নিশ্চিত না করতে পারলে সেটা তাদের ব্যর্থতা।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া বলেন, “প্রশাসন সেনাবাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাওয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট প্রমাণ করে দিয়েছে যে প্রশাসন হিসেবে তাদের যে যোগ্যতা থাকার কথা, সেটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। নির্বাচনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি দরকার—যেখানে প্রতিটি গণতান্ত্রিক শক্তির সহনশীল অবস্থান থাকবে, সেটা যে নেই তারা তা সেনাবাহিনীর কাছে সহযোগিতা চেয়ে প্রমাণ করে দিয়েছেন।”

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের (বাগছাস) নেতৃত্বে “শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম” থেকে ভিপি পদে নির্বাচন করবেন আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল। তিনি বলেন, “বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”

জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের একাংশের মুখপাত্র মাহফুজ ইসলাম বলেন, “প্রশাসন চাইলে পুলিশ নিয়োগ দিতে পারে, যারা প্রশাসনের অধীনে পরিচালিত হবে। অন্যথায় প্রশাসন যদি মনে করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সেনাবাহিনীর সাহায্যের প্রয়োজন, তা কেবলই এই প্রশাসনের প্রশাসনিক নির্লিপ্ততা ও অদক্ষতাকেই প্রমাণিত করবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে জাকসুর সবশেষ তিনটি নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন বর্তমানে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু।

তিনি বলেন, “১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে ছাত্রদলের লোকাল ও অ্যান্টি লোকাল পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। এতে তিনিসহ আটজন আহত হন। তখন পুলিশ মোতায়েন হলেও ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে থাকতো। বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত। এটা গর্বের বিষয়। সেনা মোতায়েন হলে সেটি স্বায়ত্তশাসনের চেতনাবিরোধী হবে।”

প্রশাসন যা বলছে

নির্বাচন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাফরুহী সাত্তার বলেন, “সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে বা সবক্ষেত্রে মূলত আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। দেশে যেহেতু পুলিশের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীও দায়িত্ব পালন করছে, সেহেতু নির্বাচনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবে। ক্যাম্পাসে হয়তো কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে সেটিও এখনও চূড়ান্ত হয়নি।”

সার্বিক বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য আমরা সবধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি। আশাকরছি নির্বাচন আমরা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবো।”

   

About

Popular Links

x