Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে উদযাপন হচ্ছে পহেলা বৈশাখ

গান, নৃত্য, আবৃত্তি, নাট্য পরিবেশনা ও লোকজ সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপন করা হয়

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশে নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক অঙ্গন-সবখানেই বইছে বৈশাখের প্রাণচাঞ্চল্য। বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে পুরো নগরী।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক পৃথক আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে নগরীর অন্যতম বড় আয়োজন হচ্ছে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাবের উদ্যোগে ঐতিহাসিক সিআরবি শিরীষতলায়, জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে এবং বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের উদ্যোগে নন্দনকানন কাটাপাহাড় লেন এলাকায়। প্রতিটি আয়োজনেই আছে গান, নৃত্য, আবৃত্তি, নাট্য পরিবেশনা ও লোকজ সংস্কৃতির বহুমাত্রিক উপস্থাপন।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডিসি হিল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বর্ষবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমাতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণরাও অংশ নেন উৎসবের আনন্দে। দিনভর চলবে লোকসঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলসঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্য পরিবেশনা।

অন্যদিকে, সিআরবি শিরীষতলায় নববর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এ আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে রেলওয়ে অফিসার্স ক্লাব। ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় অনুষ্ঠান, যেখানে সম্মিলিত কণ্ঠে গান পরিবেশনার মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হয়। ঐতিহ্যবাহী সাজসজ্জা ও গ্রামীণ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় সাজানো হয় পুরো প্রাঙ্গণ।

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, চট্টগ্রাম জেলা সংসদের উদ্যোগে নন্দনকানন কাটাপাহাড় লেন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এখানে গণসঙ্গীত, পথনাটক ও আবৃত্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয় সমাজ সচেতনতা ও সংস্কৃতির বার্তা।

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতেও নববর্ষ বরণ উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেয় স্থানীয় শিল্পীরা।

আবৃত্তি ও সঙ্গীতকেন্দ্রিক আয়োজনেও ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণ। বোধন আবৃত্তি পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে “বোধন বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩”। একইসঙ্গে কাজীর দেউড়িস্থ সিজেকেএস মুক্ত মঞ্চে (আউটার স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নরেন আবৃত্তি একাডেমি।

জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, চট্টগ্রাম ৩১ শে চৈত্র রাতে বৌদ্ধ মন্দির সড়কে “আলপনার রঙে নববর্ষ আবাহন” কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। পাশাপাশি পহেলা বৈশাখে চট্টগ্রাম মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

নগরীর আবাসিক এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে বৈশাখের আমেজ। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে জাতিসংঘ পার্কে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সহযোগিতা করছে পিটুপি ও উইকন। মেলায় রয়েছে বিভিন্ন হস্তশিল্প, পিঠা-পুলি, খেলনা ও লোকজ পণ্যের দোকান, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রামে নববর্ষ বরণ

নগরের বাইরে সবচেয়ে বড় আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে সেখানে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা। পাশাপাশি পুতুল নাচ, বলিখেলা, বৌচি, কাবাডিসহ গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করছে। এছাড়া পটিয়া সরকারি কলেজ মাঠেও বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নেয় চট্টগ্রামবাসী। সকাল সাড়ে ৮টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শোভাযাত্রাটি নগরীর সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে কাজীর দেউড়ি, লাভ লেন মোড় হয়ে ডিসি হিলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৈশাখের ঐতিহ্য তুলে ধরতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ, মুখোশ, বর্ণিল ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। পুরো শোভাযাত্রা জুড়ে ছিল উৎসবের উচ্ছ্বাস, ঢোল-বাদ্যের তালে তালে নাচ-গান এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ।

শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ যারা বসবাস করে, তাদের প্রত্যেকের আলাদা রং থাকলেও উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আমরা একতাবদ্ধ। আমরা একত্রে মিলিত হয়ে আমাদের উৎসব আয়োজন করি।

তিনি আরও বলেন, সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে এবং উৎসবের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়—এই আয়োজন সেই সম্প্রীতির প্রতীক।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সিকিউরিটি ও অপারেশন ডিভিশনের সমন্বয়ে ক্রাইম ডিভিশন, ডিবি, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট এবং সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ মাঠে কাজ করছে।

   

About

Popular Links

x