প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এ দেশের ৪০% মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত। দেশের চার কোটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। এ দেশের প্রধান পেশাই হল কৃষি। ২২ হাজার কৃষককে আমরা প্রথম পর্যায়ে কৃষক কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে যাচ্ছি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে কৃষক কার্ড বিতরণ ও প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যের তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এদেশের মানুষকে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা আজকে আমরা বাস্তবায়ন করলাম। নির্বাচনের পূর্বে দেশের মানুষের কাছে আমরা যে সকল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে কৃষক কার্ডও ছিল। বাংলাদেশের ১২ লাখ কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণের মওকুফের আওতায় সুবিধা পেয়েছে। ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া সরকার গঠনের পর ৫ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছিলেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খননের কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল। কৃষি উৎপাদন দ্বিগুন হয়েছিল।
তিনি বলেন, এদেশের কৃষক যদি বেঁচে থাকে, তাহলে মানুষ ভালো থাকতে পারবে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও স্বচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা। সেজন্য আমরা কৃষি কার্ড দিয়েছি। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরাসরি ১০টি সুবিধা পৌঁছে দিতে পারবো। শহীদ জিয়াউর রহমানের খাল খননের মাধ্যমে কৃষকদের সেচের সুবিধায় আনা হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, সারাদেশে আমরা খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো। খাল খননের মাধ্যমে বন্যার সময়ের অতিরিক্ত পানি পরবর্তী সময়ে যেন ধরে রাখতে পারি সেজন্য খাল খনন আমাদের একটি লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেই হবে না, যেসব অঞ্চলে কৃষিপণ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত কল-কারখানা আছে সেগুলো যাতে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। যাতে করে আমাদের পণ্য বিদেশেও রপ্তানি করতে পারি সেজন্য আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। টাঙ্গাইলের মধুপুরের আনারসহ অন্যান্য ফসল যাতে করে হিমাগারে রাখতে পারি, এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের দেশ গড়ার সময়। কৃষক ভাইদের পাশে আমরা যেমন দাঁড়াবো, তেমনি আমাদের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করে তুলতে না পারলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো না। পরিবারের নারী প্রধানের জন্য আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করতে সক্ষম হয়েছি। পর্যায়ক্রমে আমরা চেষ্টা করবো আগামী ৫ বছরের মধ্যে দেশের সকল নারী পরিবার প্রধানদের কাছে এই কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দিতে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে দেশের উন্নয়ন। আমরা জনগণের সঙ্গে নিয়ে চলতে চাই। বাংলাদেশের সকল মানুষের দেশ গঠনের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রেজভী প্রমুখ।এছাড়া একজন কৃষক ও কৃষাণী বক্তব্য রাখেন।

১৫ জন কৃষককে নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড বিতরণ করেন এবং গাছের চারা তুলে দেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও নয়টি উপজেলায় কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শহরের পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন ও স্টল পরিদর্শন করেন।
কৃষি কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা, কৃষকদের পরিচিতি, ভর্তুকি, ঋণ, বীজ ও সারসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকরা। এর ফলে কৃষি সহায়তা বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।



কৃষক কার্ড কারা পাবেন, কীভাবে পাবেন এক নজরে