Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নমুনা পরীক্ষায় সয়াবিন ডালডা বাটারে অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট

ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান বিএফএসএ’র

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সংগ্রহ করা বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় অধিকাংশেই নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

সোমবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীতে বিএফএসএ এবং মুয়েন্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত “মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উপর ব্যবহৃত রান্নার তেলের ক্ষতিকর প্রভাব” শীর্ষক সেমিনারে বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত নমুনার মধ্যে সয়াবিন তেলের ১১টির মধ্যে ৭টি, ডালডার ৯৫টির মধ্যে ৯৩টি, বাটারের ৩০টির মধ্যে ২৬টি এবং মার্জারিনের ১৪টির মধ্যে ৬টি নমুনায় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড পাওয়া গেছে।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাটের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। ট্রান্স ফ্যাট রক্তনালিতে জমে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৯ জন হৃদরোগে মারা যায়, যার প্রায় ৪% মৃত্যুর সঙ্গে ট্রান্স ফ্যাট জড়িত।”

তিনি আরও বলেন, “২০২১ সালে প্রণীত ‘খাদ্যদ্রব্যে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা’ অনুযায়ী খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২% নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।''

খাদ্যে অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাটের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পোড়া তেল ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, “সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে হলে খাদ্যে পোড়া তেলের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।”

তিনি ব্যবহৃত তেল যেন পরিবেশের ক্ষতি না করে, সে জন্য এর সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ অবস্থায় ট্রান্স ফ্যাটের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সেমিনারে জানানো হয়, একই তেল বারবার ব্যবহার করলে তাতে ট্রান্স ফ্যাট ও ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা ক্যান্সার, হৃদরোগ ও লিভারের জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ব্যবহৃত তেল খাদ্যে পুনর্ব্যবহার না করে তা সংগ্রহ করে বায়োডিজেল উৎপাদনে ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বক্তারা।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী বিজ্ঞানী ড. আহমেদ খায়রুল আবরার বলেন, “পোড়া তেল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এবং কোনো তেল দুই থেকে তিনবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়।”

সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, খাদ্য ব্যবসায়ী, গবেষক ও সংবাদমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

   

About

Popular Links

x