Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জলমগ্ন কুমিল্লা নগরী, পরীক্ষা কেন্দ্রও টইটম্বুর

কোথাও কোথাও গাছপালা ভেঙে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম

সকাল থেকে কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা। কোথাও হাঁটু ও কোথাও কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে সড়ক ও নিম্নাঞ্চল। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বাইরে বের হওয়া মানুষ।

এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থী ও সঙ্গে থাকা অভিভাবকদেরও ভোগান্তির শেষ ছিল না। পরীক্ষা শেষে অনেকে বের হয়েছেন কাকভেজা হয়ে। এদিন সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে নগরীর আদালত সড়ক, লাকসাম সড়ক সালাউদ্দিন মোড়, মনোহরপুর, মহিলা কলেজ রোড, রেইসকোর্স এলাকা, ঈদগাহ সড়ক, অশোকতলা, মগবাড়ি চৌমুনী, কালিয়াজুড়িসহ নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়।

এছাড়া, কোথাও কোথাও বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে যায়। পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে মানুষ। বিশেষ করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী। পাশাপাশি টানা বর্ষণে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কুমিল্লার ঈশ্বরপাঠশালা স্কুল কেন্দ্রের সামনে পরীক্ষা শেষে ছেলেকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে অভিভাবক হারুনুর রশিদ বলেন, “পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২০ মিনিট পরেই বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর মোমবাতি ও চার্জার লাইট দিয়ে ভেতরে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই কেন্দ্রে পানি প্রবেশ করে। স্কুলের পুরাতন ভবনে যে সকল শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়েছে তাদেরকে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে লিখতে হয়েছে।”

নগরীর মগবাড়ি চৌমুনী এলাকার ব্যবসায়ী আবদুস সালাম বলেন, “বৃষ্টিতে দোকানে পানি ঢুকে সব ভিজে গেছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে যেনো বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ তৈরি না হয় সে উদ্যোগ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করা।”

এদিকে, টানা বর্ষণের কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিস্কাশনে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ড্রেন ও খালের মুখগুলো পরিচ্ছন্ন করে দ্রুত পানি সরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। তবে বিকেল পর্যন্ত নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে, ভারি বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ে ধানসহ অন্যান্য শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কুমিল্লা জেলার দক্ষিণ অঞ্চলের উপজেলা গুলো চৌদ্দগ্রাম, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ, বরুড়া, বুড়িচং উপজেলা থেকে ঘরবাড়ি ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব উপজেলায় গাছপালা ভেঙে পড়ে বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেও বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর পাওয়া গেছে।

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি জানান, উপজেলার ভবানীপুর, এগারোগ্রাম সহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়েছে। সেগুলো অপসারণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন আছে, সেগুলো আবারও সংযোগ দিতে কাজ করছে পল্লী বিদ্যুৎ।

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন চলমান থাকতে পারে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বিকেলে জানিয়েছেন, যেসব ড্রেনের মাধ্যমে নগরীর পানি বের করে সেসব ড্রেন ও খাল তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে হচ্ছে। এতে নগরীর জলাবদ্ধতা অনেকাংশেই কমে আসবে।

   

About

Popular Links

x