Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘আপনি টাকা খেয়েছেন, এটা তো আমি বলিনি’, হাসনাতকে জেলা পরিষদ প্রশাসক

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে

আপডেট : ৩১ মে ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া।

শনিবার (৩০ মে) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে এসব অভিযোগ করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। 

এরপর থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পরে শনিবার রাতেই জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে কল দিয়ে নিজেই বিষয়টি জানতে চান হাসনাত আবদুল্লাহ।

সেই ফোনালাপের অডিও নিজেই আবার সাংবাদিকদের দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। এক মিনিটের সেই ফোনালাপে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়াকে বলতে শোনা যায়, “রাজস্ব খাত না, সব খাত মিলিয়ে আমার জেলা পরিষদের মাধ্যমে আপনার এলাকায় গেছে। আমি বলতে চেয়েছি, আপনারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন করেছেন। এখন আপনার উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকা গেছে, আর ওই উপজেলায় গেছে ১৫ কোটি টাকা। আপনি টাকা খেয়েছেন, এটা তো আমি বলিনি।”

এর জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান, “আপনি কী বলছেন?” উত্তরে প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমি বলছি, উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আপনারা দুই উপজেলায় ২৫ কোটি টাকা নিয়েছেন।”

তখন হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আপনি এটা বলেননি”। জবাবে মোস্তাক মিয়া বলেন, “না, না, ওইটাই বলেছি। হয়তো মিডিয়াতে পুরো বক্তব্য আসেনি। আমি বলতে চেয়েছি, আপনার এলাকায় কাজের জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে। কাজ ছাড়া তো টাকা দেওয়া হবে না। সাংবাদিকরা আমাকে প্রশ্ন করেছিল, আমি সেটারই উত্তর দিয়েছি। আপনি টাকা খেয়েছেন- এটা আমি বলিনি।”

এর আগে শনিবার (৩০ মে) রাতে হাসনাত আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, এই বরাদ্দ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দেওয়া বিশেষ বরাদ্দ, যেটা জেলা পরিষদের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে।

তিনি বলেন, “দেবিদ্বার মোট ৪২ টি কাজে ৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। যেটা এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের রাজস্বের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা নাই। প্রশাসক রাজস্ব খাত আর বিশেষ বরাদ্দ সম্পর্ক জ্ঞান থাকলে এই কথা বলতেন না। আর উনি এমনভাবে বলেছেন মনে হচ্ছে টাকা আমরা নিজেরা পকেটে নিয়ে গেছি। অথচ দেবিদ্বারের বিভিন্ন কাজে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।”

একই দিন দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া অভিযোগ করেন, “এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। একইভাবে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা।”

এসময় মোস্তাক মিয়া আরো বলেন, “এই হলো বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের অবস্থা। তারা মুখে বাংলাদেশের সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তা ছিল না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তাদের চরিত্র ছিল ভিন্ন।”

তবে এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমি বিষয়টি যেভাবে বলতে চেয়েছি মিডিয়াতে সেটি অন্যভাবে এসেছে। কুমিল্লায় ১৭টি উপজেলা অথচ দুটি উপজেলাতেই বরাদ্দের বড় একটি অংশ চলে গেছে। এটি একটি বড় বৈষম্য হয়েছে৷আমি সেটি বুঝাতে চেয়েছি।” 

   

About

Popular Links

x