Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘এআই’ নজরদারিতে এখন ঢাকার ট্রাফিক

শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত পাঁচটি মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে এআই প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় নজরদারি 

আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

রাজধানীর চিরচেনা ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর ভরসা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শাহবাগ থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মোড়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে এআই প্রযুক্তিনির্ভর স্বয়ংক্রিয় নজরদারি। চালুর প্রথম চার দিনেই প্রায় ৩০০টি মামলা রেকর্ড করেছে এই ডিজিটাল সিস্টেম।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও জাহাঙ্গীর গেট সিগন্যাল এলাকায় এআই প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া ফার্মগেট মোড়ে ক্যামেরা প্রতিস্থাপনের কাজ চলছে।

এতোদিন ট্রাফিক আইন ভাঙলে সার্জেন্টের মুখোমুখি হতে হতো, যেখানে প্রভাব খাটানো বা অনুরোধের সুযোগ থাকতো। তবে এআই ক্যামেরার ক্ষেত্রে সেই সুযোগ নেই।  

লাল বাতি অমান্য করা, উল্টো পথে চলা, হেলমেট না পরা কিংবা জেব্রা ক্রসিং দখল করার মতো অপরাধের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সরাসরি চলে যাচ্ছে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারে। সেখান থেকে বিআরটিএর ডেটাবেইস অনুযায়ী গাড়ির মালিকের ঠিকানায় পৌঁছে যাচ্ছে মামলার নোটিশ।

প্রযুক্তি বনাম বাস্তবতা: চ্যালেঞ্জ যেখানে

উদ্যোগটি প্রশংসিত হলেও বিশেষজ্ঞরা এর শতভাগ সাফল্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামানের মতে, ঢাকার সড়কে বৈধ গাড়ির চেয়ে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা অনেক বেশি। এছাড়া বিআরটিএর ডেটাবেইসে মালিকানা সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল থাকায় অনেক সময় নিরপরাধ ব্যক্তির নামে মামলা যাওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।

গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞ মালিহা তাবাসসুম মনে করেন, রিকশা, বাস ও মোটরসাইকেলের ‘বৈচিত্র্যময়’ জটলায় এআই সেন্সর বিভ্রান্ত হতে পারে। আবার অনেক সময় পথচারীকে বাঁচাতে গিয়ে বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে লেন পরিবর্তন করলে প্রযুক্তি তাকে কেবল ‘অপরাধ’ হিসেবেই গণ্য করতে পারে, যা পরিস্থিতির সঠিক প্রতিফলন নয়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ডিএমপি জানায়, আগামী ছয় মাসের মধ্যে রাজধানীর অন্তত ৫০০টি পয়েন্টে এই ক্যামেরা বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, বর্তমানে পাঁচটি সিগন্যালে কাজ চললেও দ্রুতই ফার্মগেটসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো এর আওতায় আসবে।

এই প্রযুক্তির ফলে সড়কে পুলিশের ওপর চাপ কমবে এবং মানুষের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার পূর্ণ সুফল পেতে হলে বিআরটিএর তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করা এবং সড়কের অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

   

About

Popular Links

x