দেশে ক্রমাগত বাড়তে থাকা ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রচলিত আইনের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে আইন সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১০ মে) রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রচলিত আইন দিয়ে মব কালচার পুরোপুরি মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে আমরা প্রচলিত আইনের আওতায় ব্যবস্থা নিচ্ছি, তবে তা যথেষ্ট নয়।” তিনি আইনি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রসচিব ও আইজিপিকে বিষয়টি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এই সামাজিক ব্যাধি দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জুয়া এবং বিশেষ করে অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “অনলাইন জুয়া, সাইবার ক্রাইম এবং অবৈধ মানি ট্রান্সফার মোকাবিলায় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আধুনিক আইনি কাঠামো কেমন হওয়া উচিত, তা পর্যালোচনা করে খসড়া তৈরি করবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, অপরাধের ধরন ইন্টারনেটের কারণে পাল্টে গেছে, তাই পুরোনো আইন দিয়ে বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে এ ক্ষেত্রে বিদেশি অভিজ্ঞতাও কাজে লাগানো হবে।
পুলিশের মনোবল বাড়াতে এবং সেবার মান উন্নত করতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য (পরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত) বিশেষ নীতিমালার ভিত্তিতে ওভারটাইম ভাতা চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি কার্যকর হলে পুলিশিং কার্যক্রমে আরও গতি আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গত দুই মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে দাবি করে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



