সিলেটে ডোবা থেকে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর দায়ের করা মামলায় জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণ চেষ্টার পর শিশুটিকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন জাকির হোসেন (৩৫) নামের ওই ব্যক্তি। গ্রেপ্তার জাকির প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে শিশুর বাবার চাচাতো ভাই।
সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. মনজুরুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর শিশু হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, হত্যার শিকার সাড়ে চার বছরের শিশু এলাকার এক দিনমজুরের মেয়ে। ৬ মে সে নিখোঁজ হয়। পরে ৮ মে স্থানীয় একটি ডোবা থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর শিশু মা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে জালালাবাদ থানায় মামলা করেন।
এদিকে, জাকির গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্বীকারোক্তি দিয়ে ঘটনার যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
সেখানে জাকিরকে বলতে শোনা যায়, শিশুকে তিনি সিগারেট আনতে দোকানে পাঠান। তখন তার ঘরে একাই ছিলেন। এছাড়া, ইয়াবা সেবন করে নেশাগ্রস্তও ছিলেন। শিশু ফিরে আসার পর তার মধ্যে ‘অমনুষত্ব্য’ বোধ জেগে ওঠে। তখন তিনি মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি অজ্ঞান হয়ে গেলে তিনি ভয় পেয়ে যান এবং তাকে গলা টিপে হত্যা করেন।
তাকে আরও বলতে শোনা যায়, পরে কী করবেন ভেবে না পেয়ে বাসায় থাকা একটি সুটকেসে শিশুর মরদেহ রেখে দেন। দুদিন রাখার পর দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে ঘরের মানুষজন টের পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। রাতে রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকার সুযোগে শিশুর লাশ ডোবায় ফেলে আসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে শিশুর মরদেহ ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ ডোবায় ফেলে দেন। ডোবা থেকে শুক্রবার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে, শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে জাকিরকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে তার শাস্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। পরে বিক্ষুব্ধরা তার বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।
অতিরিক্ত উপকমিশনার বলেন, জাকিরকে গ্রেপ্তার ও তদন্তের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
অপরদিকে, ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, গ্রেপ্তারের পর রাতে থানার ভেতরেই এটি ধারণ করা হয়েছে। এ সময় আরও কয়েকজনকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। ভিডিওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম।



