Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লেবাননে নিহত দুই যুবকের পরিবারে শোকের মাতম

মরদেহ দেশে ফেরত আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা  

 

আপডেট : ১২ মে ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

লেবাননে নিহত শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। কর্মক্ষম দুই ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবার দিশেহারা। মরদেহ ফেরত আনতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।  

গত সোমবার (১১ মে) লেবানন স্থানীয় সময় দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাজধানী বৈরুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। 

দক্ষিণ লেবাননের জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে। আর নাহিদুল ইসলাম নাহিদের (২০) বাড়ি আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।

শফিকুল ইসলামের মা আজেয়া খাতুন জানান, শফিকুল পরিবারের বড় ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে। তার তিনটি বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তিনি লেবাননে যান। তিনি জেবদিন এলাকায় দুম্বার রাখাল ও বেকারিতে কাজ করতেন। গতকাল বিকেলে জেবদিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলা হতে পারে, এমন আশঙ্কায় ভ্যানে করে নাহিদকে নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাচ্ছিলেন। এসময় ড্রোন হামলায় ঘটনাস্থলে মারা যান শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম।

শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী বলেন, “শফিকুল ইসলাম প্রায় ৮,০০,০০০ টাকার ঋণ করেছে। তিনি লেবাননে যাওয়ার পরে এক মাস আগে ৪০,০০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন। তার দুই মেয়ে। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে এখন আমাদের উপায় হবে কি!” বিলাপ করতে করতে মুর্চ্ছা যান আফসার আলী।  

নাহিদুল ইসলামের মা নূরনাহার বলেন, “নাহিদ শফিকুলের সাথে একই সময়ে লেবাননে যান। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় নাহিদ। তার ছোট ভাইয়ের নাম নাফিজ (১২)। আশাশুনির দরগাহপুর কলেজে বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময়  তিনি শফিকুল ইসলামের সাথে লেবাননে যান। তিনিও লেবাননে একই কাজ করতেন।”

তাদের মরদেহ নাখতিয়ের নাবিহো বেরোবী হাসপাতালে রয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নাহিদের ফুফু রোজিনা খাতুন জানান, নাহিদের বিদেশে যাওয়ার সময় ৫,০০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে যায়। সে বিদেশে গিয়ে মাত্র ১ মাসের টাকা দিয়েছে।

এবিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন পেলে প্রবাসি কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের মরদেহ আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

   

About

Popular Links

x