জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৫১ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ওই এলাকায় দেখা গেলেও তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সঙ্গে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা জানান, রাত এগারোটার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে দীর্ঘক্ষণ অনুসরণ করছিল। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে অন্ধকার স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, “পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীর চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। পরে আতঙ্কিত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। ”
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীর হোসেন বলেন, “আমরা ওই শিক্ষার্থীর প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছি।”
প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা অফিসের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতের পরে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হয়। পরে তার সহযোগিতায় সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে অভিযুক্ত ধর্ষণচেষ্টাকারীকে খুঁজে বের করা হয়। এসময় নিরাপত্তা কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নিয়ে এ ঘটনায় দ্রুত দোষীকে শনাক্ত করে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করি।ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তকে বের করেছি তবে তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুরো ক্যাম্পাস সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। আমরা কোনো না কোনো ফুটেজ দেখে তার পরিষ্কার ছবি পাবো বলে আশা করছি। এ ঘটনায় আমরা পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতাও চাইবো। যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভুক্তভোগীর পাশে আছে বলেও জানান তিনি।



