পটুয়াখালীতে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতা ও যুবলীগের এক কর্মীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১২ মে) রাত থেকে বুধবার (১৩ মে) ভোর পর্যন্ত পটুয়াখালী শহরের বনানী, সবুজবাগ ও কলেজ রোড এলাকা এবং বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট বন্দর এলাকার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন (৫৫), গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের মো. কবির হোসেন (৪০) এবং পটুয়াখালী পৌর শহরের কলেজ রোড এলাকার মোহাম্মদ রাসেল তালুকদার (৩৪)। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, রাসেল তালুকদার আগে যুবলীগের কর্মী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে হানি ট্র্যাপের ফাঁদ পেতে এক ঔষধ ব্যবসায়ী ও এক চাকরিজীবীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, শহিদুল নামে এক ভুক্তভোগীকে কৌশলে ডেকে এনে নারীদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে তিনি টাকা আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এরপর অভিযান চালিয়ে চক্রের বাকি দুই সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “অভিযান চালিয়ে হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আলামত ও তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে আরও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



