Tuesday, July 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জয় বাংলা স্লোগানেই ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের শেষ যাত্রা

জানাজার আগে বিশিষ্টজনরা তার বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করেন

আপডেট : ১৪ মে ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম

রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের গগণবিদারী স্লোগান আর অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় বিদায় জানানো হলো চট্টগ্রামের কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেলা সোয়া ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে হাজারো নেতাকর্মী ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন।

সকাল ১০টা থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জমিয়াতুল ফালাহ মাঠে জড়ো হতে থাকেন। জানাজায় দল-মতনির্বিশেষে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ও কর্মীরা অংশ নেন। 

জানাজা শেষ হতেই মরদেহ নিয়ে রাখা হয় অ্যাম্বুলেন্সে। তখনই মাঠের চারপাশ থেকে হাজারো সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক সহচর ও অনুসারীরা অ্যাম্বুলেন্স ঘিরে স্লোগান ধরেন।তাদের কণ্ঠে ওঠে ‘বীর চট্টলার মোশাররফ ভাই, আমরা তোমায় ভুলি নাই’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু', ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান।

জানাজার আগে চট্টগ্রামের বিশিষ্টজনরা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করেন। চসিক মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, তিনি ছিলেন একজন বর্ণাঢ্য রাজনীতিবিদ এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে তাঁর বিশাল অবদান রয়েছে। চট্টগ্রামবাসী তাঁকে সবসময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কাতারের নেতা ছিলেন তিনি। উন্নয়ন পরিকল্পনা তিনি খুব ভালো বুঝতেন। আজকের এই জানাজাই প্রমাণ করে তিনি কত বড় মাপের মানুষ ছিলেন। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তাঁর সাহসী ভূমিকা জাতি চিরদিন মনে রাখবে।

বাবার জন্য দোয়া ও ক্ষমা চেয়েছেন বড় ছেলে সাবেদুর রহমান। তিনি বলেন, বাবা সারাজীবন দেশের ও মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন। চলার পথে তিনি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকলে দয়া করে ক্ষমা করে দেবেন।

১৯৪৩ সালে মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামে জন্ম নেওয়া ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন একাধারে তুখোড় ছাত্রনেতা ও দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা। লাহোরে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময় থেকেই তিনি বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ১ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখ যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে তিনি প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একাধিকবার সংসদ সদস্য ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

জমিয়াতুল ফালাহ মাঠে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মরদেহ তাঁর নিজ গ্রাম মীরসরাইয়ের ধুম গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হবে। তাঁর প্রয়াণে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো।

   

About

Popular Links

x