খুলনার কয়রা উপজেলায় সিঁধ কেটে বাড়িতে ঢুকে ভবতোষ মৃধা (৪০) দম্পতির ওপর হামলা হয়েছে। এসময় দুর্বৃত্তের ধারালো অস্ত্রের কোপে ওষুধ ব্যবসায়ী ভবতোষ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তার স্ত্রী বিভা মৃধা।
রবিবার (১৭ মে) দিনগত রাত আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ভবতোষ মৃধা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত যশো মৃধার ছেলে। তিনি স্থানীয় গিলাবাড়ি বাজারে একটি ওষুধের দোকান পরিচালনা করতেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলামত সংরক্ষণের জন্য ভোররাতে পুলিশ এসে ঘরে তালা লাগিয়ে গেছে। বারান্দা ও সিঁড়িতে তখনও রক্তের দাগ ছিল। ঘরের পেছনের দিকে গিয়ে দেখা যায়, মাটি কেটে বড় একটি গর্ত করা হয়েছে। আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে মাটি। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, ওই গর্ত দিয়েই দুর্বৃত্তরা ঘরে প্রবেশ করে।
প্রতিবেশী সীমা মণ্ডল বলেন, “গর্তের মুখে ঘরের ভেতরের ফ্রিজের পায়া এসে পড়েছে। ফ্রিজের পাশ দিয়ে তারা ঢুকেছে। এই ঘরেই ভবতোষ, তার স্ত্রী ও ছোট ছেলে ঘুমাতেন। পাশের ঘরে থাকতেন ভবতোষের মা ও মেয়ে।”
ভবতোষের মা আশুলতা মৃধা বলেন, “আমি পাশের ঘরে নাতনিকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ বৌমার কান্না শুনে গিয়ে দেখি, আমার খোকা রক্তে ভেসে পড়ে আছে। মাটি কেটে ঘরে ঢুকে আমার ছেলেকে মেরে গেল, অথচ কিছুই টের পাইনি।”
প্রতিবেশী পরিমল মণ্ডল বলেন, “রাত আড়াইটা-তিনটার দিকে ভবতোষের স্ত্রী ও মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে যাই। পরে ঘরে ঢুকে দেখি, রক্তে ভেসে যাচ্ছে। ভবতোষ উপুড় হয়ে পড়ে ছিলেন। শরীর তখনও গরম ছিল। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করি। ভবতোষের স্ত্রীর পায়েও কোপ লেগেছে।”
নিহত ভবতোষের স্ত্রী আহত বিভা মৃধা জানিয়েছেন, রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি গফুর নামের একজনকে চিনতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন। জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতার কথাও বলেছেন তিনি।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, “রাত সাড়ে ৩টার দিকে ভবতোষ মৃধাকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। গলায় বড় ধরনের কোপ এবং বুকের মাঝখানে গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, “ঘরের ভিটা কেটে ভেতরে ঢুকে একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে এটি চুরি বা ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। ঘর থেকে কোনো মূল্যবান জিনিস খোয়া যায়নি। পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য মিজানুর রহমান খোকন বলেন, “রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ভবতোষ মৃধার মাটির ঘরে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় শব্দ পেয়ে ভবতোষ জেগে উঠে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। তার স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।”
তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভবতোষ মৃধাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত স্ত্রী বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তিনি শঙ্কা মুক্ত। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, কয়রায় গত কয়েক মাস ধরে সিঁধ কেটে চুরির ঘটনা বেড়ে চলেছে। সংঘবদ্ধ চক্র ঘরে চেতনানাশক জাতীয় পদার্থ স্প্রে করে বাসিন্দাদের অচেতন করে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।



