এবারের ঈদ-উল-আজহায় টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ঈদযাত্রায় উত্তরাঞ্চলের মানুষদের যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার মহাসড়কের নির্মাণ কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। কয়েক দফা সময় বাড়লেও শেষ হয়নি মহাসড়কের এ অংশের কাজ। এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৫০%।
বিভিন্ন সময়ে এ মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতকারীদের পড়তে হয় দুর্ভোগে। বিশেষ করে বিগত সময়গুলোতে ঈদযাত্রায় যানজটে দুর্ভোগের মাত্রা বাড়ে কয়েকগুণ। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের ধীরগতির অভিযোগ পরিবহন চালক ও যাত্রীদের। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক। ঢাকা টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত রাস্তার চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় এই অংশ নির্বিঘ্নেই যাতায়ত করতে পারছে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৪টি জেলার যাত্রীরা।
কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি। এলেঙ্গাতে মহাসড়কের এ অংশে ফ্লাই ওভারের কাজ চলমান থাকায় সংকুচিত হয়ে পড়ে মহাসড়কের এ অংশের প্রশস্ততা। ফলে প্রতিনিয়তই লেগে যাচ্ছে গাড়ির জট।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত চারলেনের কাজ চলছে। বিশেষ করে এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজ চলছে। এছাড়া বিভিন্নস্থানে আন্ডারপাসের কাজ চলছে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে দ্রুত গতিতে কাজ করা হচ্ছে।
এলেঙ্গায় ফ্লাইওভারের কাজের শ্রমিকরা জানান, সকাল থেকেই দ্রুতগতিতে কাজ করছি। বর্তমানে আমাদের দ্রুত কাজ করার নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা একাধিক শ্রমিক কাজ করছি।
বগুড়ার বাস যাত্রী মো. ছানোয়ার বলেন, “বিগত কয়েক বছর ধরেই এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ চলছে। কাজ শেষ না হওয়ায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজের ধীর গতি। ঠিকাদার সঠিকভাবে কাজ করছে না।”
আরেক যাত্রী হাফিজুর রহমান বলেন, “রাস্তার কাজ কবে শেষ হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। গত কয়েক বছর ধরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করছেই। কাজের তদারকি দরকার। যথাযথ তদারকি হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।”

এ ব্যাপারে ঠিকাদার আবদুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আওয়াল বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ১ বছর মেয়াদ বাড়ানোর হয়েছে। ইতিমধ্যে ৫০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।”
তিনি জানান, আসন্ন ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের দুই পাশেই চার লেনে যানবাহন চলাচলের জন্য উম্মুক্ত রাখা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাসেক-২ প্রকল্প আওতায় ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডারের মাধ্যমে এ মহাসড়কের উন্নীতকরণের কাজ পায় আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড। পরবর্তীতে আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড ২০২২ সালের মার্চ মাসে মহাসড়কের উন্নীতকরণের নির্মাণ কাজ শুরু করে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে পুনরায় তা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, প্রকল্পের ৮টি ব্রিজ, ১০টি কালভার্ট, ৩টি আন্ডারপাস ও একটি ফ্লাইওভার রয়েছে। ব্রিজ ও কালভার্টের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আন্ডারপাসের পাইলিং শেষ হয়েছে। ফ্লাইওভারে পাইলিং শেষের দিকে।
এ প্রসঙ্গে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ায় ঠিকাদারের গাফিলতি রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বিগত দুই তিন মাস ধরে কাজের গতি বেড়েছে। আশা করছি ডিসেম্বের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবো।”



