Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মীর হেলাল: পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের কষ্টের মূল্য দিতে হবে 

পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা বিষয়ক এক সভায় তিনি এ কথা বলেন

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য নির্ধারণে পরিবহন ব্যয় ও দুর্গম যাতায়াতের কষ্ট বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। 

বুধবার (২০ মে) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) আয়োজিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রামের পল্লী অঞ্চলের কৃষিপণ্যের সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা বিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। 

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বলেন, “পাহাড়ি অঞ্চলের কৃষকরা অনেক কষ্ট করে কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে আসেন। তাই তাদের পণ্যের মূল্য নির্ধারণের সময় এই অতিরিক্ত শ্রম ও পরিবহন ব্যয়কে গুরুত্ব দিতে হবে।” 

পার্বত্য অঞ্চলের ফল ও সবজি বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে এ প্রকল্পটি সময়োপযোগী উদ্যোগ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “সরাসরি বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পরিবর্তে এটিকে প্রাথমিকভাবে একটি পাইলট গবেষণা হিসেবে কাজ করতে হবে।” 

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “সমবায়ভিত্তিক কৃষিপণ্য সাপ্লাই চেইন মডেল গড়ে তোলার মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও অংশীজনদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্বারোপ বাড়াতে হবে।” 

সভায় বার্ডের মহা-পরিচালক সাইফউদ্দীন আহমেদ প্রকল্পের সার্বিক ধারণা তুলে ধরেন। পরে মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বার্ড, কুমিল্লার পরিচালক ফৌজিয়া নাসরিন সুলতানা। 

সভায় জানানো হয়, প্রকল্পটির লক্ষ্য হলো- পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিপণ্যের পোস্ট-হারভেস্ট ক্ষতি কমানো, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা তৈরি করা। 

আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সাপ্লাই চেইনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নের একটি টেকসই মডেল গড়ে তোলাই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানান আয়োজকেরা। 

তারা জানান, প্রকল্পের আওতায় ব্লকচেইনভিত্তিক সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া ৯৫০ জন কৃষককে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য উৎপাদনের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। 

শিক্ষানবিশ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ জন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তাকে সমবায়ভিত্তিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও সাপ্লাই চেইন বিষয়ে দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বার্ডের আউটরিচ সেন্টার প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত গবেষণা প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

বক্তারা আরো বলেন, “প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পার্বত্য অঞ্চলের কৃষকদের জন্য আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, বাজার সম্প্রসারণ ও টেকসই উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” 
 

   

About

Popular Links

x