দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে গণপরিবহন চালকদের কর্মঘণ্টা নিয়ে কড়া নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা জারি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। নির্ধারিত আইন অমান্য করে অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালালে সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হবে বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) বিআরটিএ-র সদর কার্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিআরটিএ-র বিজ্ঞপ্তিতে মোটরযান আইন ও বিধির বরাতে চালকদের দৈনিক ও সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়: কোনো চালক একটানা ৫ ঘণ্টার বেশি যানবাহন চালাতে পারবেন না। একটানা ৫ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর পর চালককে অবশ্যই ন্যূনতম আধা ঘণ্টা (৩০ মিনিট) পূর্ণ বিশ্রাম দিতে হবে। বিশ্রামের পর একজন চালক ওই দিনে আরও সর্বোচ্চ ৩ ঘণ্টা গাড়ি চালাতে পারবেন। অর্থাৎ, একজন চালক কোনোভাবেই দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি এবং সপ্তাহে মোট ৪৮ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্ধারিত কর্মঘণ্টার ব্যত্যয় ঘটিয়ে বা অতিরিক্ত সময় ধরে বিশ্রামহীনভাবে গণপরিবহন চালালে চালকদের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি আসে, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই যাত্রীসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট মোটরযান মালিক ও চালকদের এই নির্ধারিত সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, এই নির্দেশনা অমান্য করে কোনো মালিক যদি চালককে অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালাতে বাধ্য করেন বা কোনো চালক নিজে আইন ভঙ্গ করেন, তবে বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ওই যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করবে।
এছাড়া, উৎসব বা বিশেষ সময়ে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় চালক ও মালিকদের প্রয়োজনে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে বিআরটিএ।



