Friday, July 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তৌহিদ হোসেন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্ত ছিল না 

কিচেন কেবিনেট ও ডিপ স্টেট সক্রিয় ছিল কি না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন সাবেক এই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা 

আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম

জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামান্যতমও যুক্ত ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। 

সোমবার (২৫ মে) যমুনা টেলিভিশনের মুখোমুখি হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এ মন্তব্য করেন। 

সাক্ষাতকারে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, “বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামান্যতমও যুক্ত ছিল না। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে চুক্তিটি সই করার বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ ছিল।” 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনায় ৭ সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এই চক্রটিই নিতো এবং তারা প্রতি মঙ্গলবার যমুনাতে বৈঠকে বসত। এই প্রভাবশালী চক্রের হস্তক্ষেপ ও মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি ৩ বার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারের অস্বস্তির কথা ভেবে তা আর সম্ভব হয়নি। 

তৌহিদ হোসেন বলেন, “কিচেন কেবিনেটের সদস্যদের অভিজ্ঞতা কম থাকলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের মতামতকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হতো। আমি যমুনাতে তাদের ১টি বৈঠকে একবার গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি প্রতি মঙ্গলবার তারা বসেন। সিদ্ধান্ত কেউ কেউ নেয় এমন কথাবার্তা আমার কানেও আসত।” 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য কোনো শক্তির সক্রিয়তা নিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, “ডিপ স্টেট পৃথিবীর সব ঘটনার সঙ্গেই যুক্ত থাকে। তারা স্রোতের বিপরীতে যায় না, বরং স্রোতের সঙ্গে থেকে পরিস্থিতি ম্যানিপুলেট করার চেষ্টা করে।” 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, এটি যে কাজে আসবে না তা তিনি আগে থেকেই জানতেন। তবে প্রথা অনুযায়ী কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়েছিল। 

নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তৌহিদ হোসেনের মূল্যায়ন হলো, “আমি মনে করি আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে একেবারে শেষ হয়ে যাবে না। আমাদের দেশের মানুষের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ নয়, তাই আমার অনুমান তারা আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।” 

তবে, নতুন সরকার ও বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক। 

   

About

Popular Links

x