বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন গৌরবময় অধ্যায়। দীর্ঘ ১৪ বছর পর তৃতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন নুরুন্নাহার নিম্নি।
বুধবার (২৭ মে ২০২৬) নেপালের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে এই অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেন এই পর্বতারোহী।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) এই তথ্য নিশ্চিত করে।
অভিযান ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘৮কে এক্সপেডিশন’ এর পক্ষ থেকে অ্যাঙ তেম্বা শেরপা আনুষ্ঠানিকভাবে খবরটি জানান। চূড়ায় আরোহণের সময় নিম্নির সাথে ছিলেন শেরপা দাওয়া নুপু ও লাকপা থিনদুক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চূড়ান্ত আরোহণের লক্ষ্যে গত ২৫ মে নিম্নি ক্যাম্প-২ (৬,৪০০ মিটার) থেকে যাত্রা শুরু করেন এবং রাতে ক্যাম্প-৩ (৭,২০০ মিটার) এ অবস্থান করেন। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ার কারণে ক্যাম্প-৩ এ এক রাত অবস্থান করে ক্যাম্প-২ এ ফিরে আসতে হয় নিম্নিকে। পরবর্তীতে আবহাওয়া অনুকূলে এলে তিনি আবারও চূড়ার উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু করেন। সব বাধা ও প্রতিকূল পথ পেরিয়ে আজ ভোরে তিনি এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছে।
এর আগে ২০১২ সালের ১৯ মে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। তার ঠিক এক সপ্তাহ পর ২৬ মে শিখরে ওঠেন ওয়াসফিয়া নাজরীন।
রংপুরের মেয়ে নিম্নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ২০০৬ সালে সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফিল্ডওয়ার্ক (মাঠপর্যায় গবেষণা) ট্রিপে গিয়েই মূলত পাহাড়ের প্রতি তার ভালোবাসার শুরু। এরপর চলে প্রস্তুতি; যার অংশ হিসেবে তিনি ভুটান, সিকিম এবং নেপালের ৭,১২৬ মিটার উঁচু ‘হিমলুং হিমাল’ জয় করেন।
বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি) আয়োজিত এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর স্পন্সরশিপে পরিচালিত এই অভিযানটির উদ্দেশ্যে গত ১১ এপ্রিল নিম্নি ঢাকা ছাড়েন। নেপালের দক্ষিণ রুট দিয়ে প্রায় ৫০ দিনের এই কঠিন অভিযান শুরু হয়েছিল।



