Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অতিরিক্ত টাইপিং প্রবণতা যে বিপদ ডেকে আনছে

আগে ডায়েরি আর কলম ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ, এখন তা অতীত

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ০২:১২ পিএম

ক্রমশ কাগজ-কলমের ব্যবহার হারিয়েই যেতে বসেছে। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের কারণে এখন প্রায় সব কাজই টাইপ করে করা হচ্ছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে যেকোনো মেসেজ পাঠানো এমনকি ফর্ম ফিলআপ পর্যন্ত। 

আগে যে ডায়েরি আর কলম ছিল দৈনন্দিন জীবনের অংশ, এখন তা অনেকটাই অতীত হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাতে লেখার অভ্যাসও দ্রুত কমে আসছে। এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু অভ্যাসে নয়, মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ওপরও পড়তে পারে।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন হাতে লেখা বন্ধ থাকলে স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ এবং চিন্তাশক্তির উপর কিছুটা প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ হাতে লেখার সময় মস্তিষ্ককে একসঙ্গে অনেক ধরনের কাজ করতে হয়। ভাবা, শব্দ নির্বাচন, হাতের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ এবং অক্ষর গঠন। এই জটিল প্রক্রিয়া মস্তিষ্ককে বেশি সক্রিয় রাখে। 

নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির এক গবেষণায় এমনটাই দাবি করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আনন্দবাজার। প্রতিবেদনটিতে, একইরকম একটি গবেষণা করেছে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বলেও বলা হয়েছে। ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজি’ নামক জার্নালে এ বিষয়ে গবেষণাপত্রও ছাপা হয়েছে। 

গবেষণাগুলোয় দেখা গেছে, হাতে লেখার সময় মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসসহ স্মৃতি ও শেখার সঙ্গে যুক্ত অংশগুলো বেশি সক্রিয় হয়। এই অংশটি নতুন তথ্য মনে রাখা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

কিছু গবেষণায় আরো দেখা গেছে, হাতে লেখার সময় মস্তিষ্কে “থিটা” ও “আলফা” তরঙ্গের কার্যকারিতা বাড়ে, যা মনোযোগ, সৃজনশীলতা এবং শেখার ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, শুধু টাইপ করার ক্ষেত্রে অনেক সময় কাজটি হয়ে যায় যান্ত্রিক। সেখানে একই ধরনের আঙুলের নড়াচড়া বারবার হলেও মস্তিষ্কের ততটা বিস্তৃত অংশ সক্রিয় হয় না যতটা হাতে লেখার সময় হয়। ফলে মানসিক ব্যায়াম তুলনামূলকভাবে কম হয়। 

এছাড়া হাতে লেখার অভ্যাস আবেগ প্রকাশ, নিজের চিন্তা গুছিয়ে বলা এবং তথ্য মনে রাখার ক্ষেত্রেও সাহায্য করে। লেখার সময় ধীরগতিতে চিন্তা করতে হয়, ফলে বিষয়টি গভীরভাবে বোঝা ও মনে রাখা সহজ হয়। তাই অনেক গবেষকই পরামর্শ দেন, ডিজিটাল যুগেও হাতে লেখার অভ্যাস পুরোপুরি বাদ দেওয়া ঠিক নয়। প্রতিদিন অল্প হলেও লেখা চর্চা করা উচিত, যেমন ডায়েরি লেখা, নোট নেওয়া বা নিজের ভাবনা কয়েকটি লাইনে লিখে রাখা। শিশুদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি তাদের শেখার ক্ষমতা ও ভাষার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।

   

About

Popular Links

x