বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সময়সীমা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে। আজ বৃহস্পতিবার থেকেই এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হচ্ছে।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ মোবাইল ফোনে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। ফোনালাপকালে মন্ত্রী আজ থেকেই বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা অবহিত করেন।
ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির মুখে এই ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দেয়, যার বড় ধাক্কা লাগে বাংলাদেশেও।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় গত ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানোর পাশাপাশি দেশের সব দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে বন্ধ করার কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা পরদিনই কার্যকর হয়েছিল।
পরবর্তীতে দোকান ব্যবসায়ী সমিতির বিশেষ অনুরোধে দোকান বন্ধের সময়সীমা সন্ধ্যা ছয়টা থেকে বাড়িয়ে সাতটা করা হয়েছিল। এরপর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কেনাকাটার সুবিধার্থে এই সময়সীমা সাময়িকভাবে শিথিল করা হলেও, ঈদের ছুটি শেষে আবার রাত সাতটায় দোকান বন্ধের নিয়ম কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়।
তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। স্থবিরতা কাটাতে ব্যবসায়ীরা দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার জন্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ব্যবসায়ীদের সেই দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে সরকার অবশেষে আজ থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার অনুমতি দিল, যা দেশের খুচরা ব্যবসা খাতে বড় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



