তিন দফা দাবিতে খুলনা-বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন।
স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফায় বৈঠকের পরও দাবি পূরণ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আগামী রবিবার থেকে তারা এ ধর্মঘটে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।
ধর্মঘট শুরু হলে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলা - বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানান বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের তিন দফা দাবিগুলো হলো -
অবৈধ কাউন্টার অপসারণ: সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি মাত্র কাউন্টার চালু রেখে পথে পথে থাকা সব অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।
অবৈধ থ্রি-হুইলার বন্ধ: আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রি-হুইলার (মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন, অটোরিকশা) চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
কাউন্টার ব্যতীত যাত্রী পরিবহন বন্ধ: দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালা বহির্ভূতভাবে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ করা।
শ্রমিক নেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, “খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে সরকারি ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে তার চেয়ে বেশি। মহাসড়কগুলোতে অবৈধ থ্রিহুইলারগুলো নিয়মিত চলাচল করছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য ২০২৪ সাল থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সাতটি বাস মালিক সমিতি ও সাতটি শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েক দফা সভা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রশাসন বারবার শুধু আশ্বাসের দিলেও কোনো সুরাহা করতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলার মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে গত ২০ মে একটি জরুরি সভা করে ধর্মঘটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরে চিঠি দিয়ে স্ব স্ব জেলার প্রশাসনকেও জানানো হয়।”
১১ জুনের আগে প্রশাসন সমস্যার সমাধান করবে বলে আশা ছিল। কিন্তু প্রশাস দাবির বিষয়গুলো সমাধান না করায় আগামী ১৪ জুন ভোর ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘটে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, “বাস মালিক সমিতির তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে একটি বৈঠকও হয়েছে।”
তিনি জানান, আগামী ১৪ জুন থেকে মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের পরিবহণ ধর্মঘট যাতে না হয় তার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।



