Sunday, June 14, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নোয়াখালীতে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

বর্তমানে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে

আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৬ এএম

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এক শিশুকে (১২) একাধিকবার ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত কয়েকমাস আগে এই ঘটনা ঘটলে, পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও এর কোনো প্রতিকার পাননি বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবার। বর্তমানে শিশুটির পরিবার পালিয়ে বেড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) ভুক্তভোগী শিশু ও তার মায়ের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণসহ একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির মা ও ভাই পুলিশ সদস্যদের একটি মেসে রান্নার কাজ করতেন। এ কারণে শিশুটির সেখানে যাতায়াত ছিল। অভিযুক্ত ওই পুলিশ সদস্য প্রায়ই শিশুটিকে ডাকতেন। শিশুটি ভয়ে যেতো না। পরবর্তীতে বাসার ঘর ঝাড়ু দেওয়া, কাপড় ধোয়া এবং বিছানা ঠিক করার কথা বলে তাকে ডেকে নেওয়া হতো।

শিশুটির ভাষ্যমতে, বাসায় ডেকে নিয়ে ওই পুলিশ সদস্য তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। শিশুটি এতে বাধা দিলে তাকে ও তার মাকে একেবারে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হতো। ধর্ষণের পর তাকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য ৫০০ বা ১০০০ টাকা দিয়ে বিদায় করা হতো এবং “এন্ড্রয়েড মোবাইল” কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো।

সর্বশেষ গত ৫ জানুয়ারি বিকেলে শিশুটির মা ওই পুলিশ সদস্যের বাসার দরজার সামনে গিয়ে ভুক্তভোগীকে ডাকলে, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ধমক দিয়ে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য করেন এবং তার মাকে মিথ্যা কথা বলে বিদায় করে দেন। পরবর্তীতে রাতে মা তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি তার মাকে সব ঘটনা জানায়।

ভুক্তভোগী শিশুটির মায়ের অভিযোগ, “মেয়েকে ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশের হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলাম। আমরা এ বিষয়ে উনার কাছে লিখিত জবানবন্দিও দিয়েছি। কিন্তু তিনি টাকার বিনিময়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। স্থানীয় দুই ব্যক্তি নামে পুলিশের পক্ষ নিয়ে আমাদের থেকে জোর করে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল। আমরা এখন ভয়ে আমাদের নিজেদের বাড়িতে যেতে পারি না। গত চার মাস যাবত আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওই পুলিশ সদস্যকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও করা হলেও, কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। 

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, অনেক আগে এ ধরনের একটি অভিযোগ উঠেছিল। তখন এই অভিযোগের ভিত্তিতে হাতিয়া সার্কেল কর্মকর্তা একটি তদন্ত করেছিলেন। তদন্তে এর সত্যতা মেলেনি বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু আজ আবার এই ধরনের একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো লিখিত কিংবা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকেও যোগাযোগ করা হয়নি পুলিশের সঙ্গে। 

   

About

Popular Links

x