Wednesday, June 24, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাইপ্রাসে ‘নিখোঁজ’ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার

তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে গিয়েছিলেন তিনি

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম

ভূমধ্যসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে শাহরিয়ার আহমেদ ওরফে ইমন (২২) নামের বাংলাদেশি এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। 
 
রবিবার (২১ জুন) দেশটির লারনাকা শহরের কোফিনু এলাকার একটি স্থানে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহটির সন্ধান পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বাংলাদেশি টাকায় ৫০ লাখ টাকা (৩৫ হাজার ইউরো) মুক্তিপণ চাওয়া হচ্ছিলো বলে জানা গেছে।  

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শাহীন বাবু (২২) নামের বাংলাদেশি এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে সাইপ্রাস পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ওই তরুণ বলে দাবি নিহতের স্বজনদের।

নিহতের স্বজনরা জানান, গ্রেপ্তার ওই তরুণের দেওয়া তথ্য থেকেই, শাহরিয়ারের মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।  তবে গ্রেপ্তার তরুণ শাহীন বাবুর বাড়ি বাংলাদেশের কোন এলাকায়, তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
 
নিহত শাহরিয়ার আহমেদ ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার লোচনপুর গ্রামের গ্রিসপ্রবাসী নাসির মিয়ার ছেলে। তিন ভাইয়ের মধ্যে শাহরিয়ার সবার বড়। তিন মাস আগে শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে গিয়েছিলেন তিনি। সাইপ্রাসের লারনাকার ওরোক্লিনি এলাকায় তিনি বসবাস করতেন।

তিন মাস আগে রোজার শেষ দিকে শাহরিয়ার শিক্ষার্থী ভিসায় সাইপ্রাসে যান। দেশে অবস্থানের সময়ই অনলাইনে সেখানকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে যাওয়ার পর তার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৪০–৫০ হাজার টাকা পাঠাতে হতো। সেখানে একটি কাজ জোগাড় করার চেষ্টা করছিলেন তিনি, যাতে বাড়ি থেকে আর টাকা নিতে না হয়।

গত ১১ জুন রাত নয়টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সব শেষ যোগাযোগ হয় তার মায়ের। সেসময় তার মাকে নতুন পাওয়া চাকরির কথা জানান ইমন। তিনি বলেন, “আজকে একটি চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে। নাইট ডিউটি। আজ রাতেই জয়েন। দোয়া করো।”

নিহতের মরদেহ প্রসঙ্গে রায়পুরার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা জানান, সাইপ্রাসে পড়তে যাওয়া রায়পুরার শাহরিয়ার নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়েছি। তবে বিষয়টি সাইপ্রাসের দূতাবাস থেকে এ পর্যন্ত আমাদের অফিশিয়ালি জানানো হয়নি। নিহত তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তারা যদি সহযোগিতা চায়, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

   

About

Popular Links

x