ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।
বুধবার (২৪ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এ রায়ের ফলে ডেন্টাল সহযোগীরা এখন থেকে কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না।
শুনানিতে বিএমডিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল হক। ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম ও আনোয়ার হোসেন এবং রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন শিশির মনির ও সায়েদা নাসরিন।
ডেন্টাল চিকিৎসকদের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এসএসসি পাসের পর ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ডেন্টিস্ট্রি’ ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। তাদের এই কোর্সের মূল কারিকুলামটিই এমনভাবে তৈরি, যাতে তারা ডেন্টিস্টদের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন।
তিনি বলেন, “কিন্তু তারা পরবর্তীতে একটি আবেদনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অনুমতি দাবি করেন। হাইকোর্ট বিভাগ আগে তাদের পক্ষে ১০টি ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।”
আইনজীবী জানান, হাইকোর্টের দেওয়া রায় চ্যালেঞ্জ করে সিভিল পিটিশন (সিপি) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালত লিভ মঞ্জুর করেছিলেন এবং চূড়ান্ত শুনানির পর সিভিল আপিলটি মঞ্জুর করেছেন। এর ফলে, হাইকোর্টের দেওয়া সেই রায় আর বহাল নেই। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এখন থেকে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না এবং নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখতে পারবেন না।
আনোয়ার হোসেন জানান, তারা কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তারা যদি পরবর্তীতে নতুন করে আবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষ যদি তা বিবেচনা করে, সেটি ভবিষ্যতের বিষয়।



