গোপালগঞ্জে ছয় বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাওলানা মো. মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে জিন্দারকে (৬০) গ্রেপ্তার করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ৩ মাস ধরে একই মাদ্রাসার নুরানি বিভাগের প্রথম শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ।
শনিবার (২৭ জুন) এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মো. মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এরপরই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাশিয়ানী থানা পুলিশ ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায়। কাশিয়ানি থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান কাশিয়ানী উপজেলার ফুকুরা ইউনিয়নের সাফলীডাঙ্গা রহিমদিয়া শামসুল উলুম কওমি মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম। তিনি কাশিয়ানী থানার রামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৫ জুন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে টিফিনের সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিশুকে বিস্কুট ও চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। এরপর কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। এর আগেও একাধিকবার একই কায়দায় শিশুর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। ঘটনাটি কাউকে জানালে শিশুকে মেরে লাশ কবরে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন ওই শিক্ষক।
শিশুর মা জানান, গত শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে আমার মেয়ে বাথরুমে কান্নাকাটি করার পর রান্নাঘরে এসে বলে, মা, আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও, আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি। তখন আমি মেয়েকে জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, বৃহস্পতিবার টিফিনের সময় মেয়েকে মাদ্রাসার মোহতামিম বিস্কুট ও চকলেটের কথা বলে তার অফিস রুমে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করেন। গত তিন মাস ধরে তাকে নিয়মিত নির্যাতন করে আসছেন।
তিনি আরও জানান, এছাড়াও তিনি মেয়েকে হুমকি দিয়েছেন, যদি কাউকে কিছু বলিস, তাহলে এই লাঠি দিয়ে তোমার মাথা ফাটিয়ে মেরে মাদ্রাসার পাশের কবরস্থানে পুতে দেব। তাই ভয়ে এতদিন মেয়ে কিছু বলেনি। কিন্তু শুক্রবার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমাকে বলেছে। আমি অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে কাশিয়ানি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, ”মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের ঘটনায় শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই দিনই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামী মাওলানা মো. মুস্তাফিজুর রহমান ওরফে জিন্দারকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ওই শিক্ষার্থীর ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে।”



