Thursday, July 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রবেশপত্র না পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি ১১ শিক্ষার্থী

কম্পিউটার অপারেটর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

বগুড়ার দুটি কলেজের মোট ১১ শিক্ষার্থী প্রবেশপত্র নিবন্ধন কার্ড না পাওয়ায় চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। এর মধ্যে মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ১০ শিক্ষার্থী এবং সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের একজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, কলেজের খণ্ডকালীন কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওন নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফরম পূরণের আশ্বাস দেন। জন্য মানবিক বিভাগের ১০ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে চার থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে নেন। তবে নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় পরীক্ষার দিনও তারা প্রবেশপত্র নিবন্ধন কার্ড পাননি।

শিক্ষার্থীরা জানান, ২৪ জুন কলেজের প্রায় ৬০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রবেশপত্র বিতরণ করা হলেও ওই ১০ জনকে পরে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। বুধবার পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তারা কোনো কাগজপত্র পাননি। এরপর থেকেই অভিযুক্ত কম্পিউটার অপারেটর সাব্বির হোসেন শাওনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বুধবার থেকেই পলাতক।

পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকরা। তাদের অভিযোগ, কলেজের দায়িত্বে অবহেলা এবং এক কর্মচারীর প্রতারণার কারণে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

বিষয়ে মহাস্থান মাহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মতিউর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীরা যদি অন্তত দুই দিন আগে বিষয়টি জানাত, তাহলে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করা যেত। শেষ মুহূর্তে বিষয়টি জানানো হওয়ায় আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“

এদিকে, একই কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি সারিয়াকান্দির চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। তিনি অভিযোগ করেন, ফরম পূরণের জন্য কলেজে সাড়ে তিন হাজার টাকা জমা দিলেও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের ভুলের কারণে তার প্রবেশপত্র আসেনি।

সুমাইয়া জানান, বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। ভাইয়ের কষ্টার্জিত টাকায় পড়াশোনা করছেন। প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এবার পরীক্ষায় বসতে না পেরে তিনি ভেঙে পড়েছেন।

চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলীমুর রাজি জানান, সুমাইয়া একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণের সময় ভুল হওয়ায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আগে জানানো হলে বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

   

About

Popular Links

x