টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন। যদিও অধিকাংশ এলাকায় পানি নেমে যেতে শুরু করেছে, তবুও সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার ২ হাজার ৬৫০টি পরিবার এখনো পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ড এবং জেলার ১৫টি উপজেলার ১৩২টি ইউনিয়ন বন্যাকবলিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ, হাটহাজারী, লোহাগড়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালী।
সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন, যেখানে প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এছাড়া সন্দ্বীপের ৮০ শতাংশ, হাটহাজারীর ৮০ শতাংশ, আনোয়ারার ৭০ শতাংশ, লোহাগড়ার ৭০ শতাংশ, ফটিকছড়ির ৬৫ শতাংশ এবং বাঁশখালীর ৬০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরের ২৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকাও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে।
বন্যা ও পাহাড়ধসে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ৪ জন, সাতকানিয়ায় ৩ জন, আনোয়ারায় ২ জন, মহানগরে ২ জন এবং সীতাকুণ্ড, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও হাটহাজারীতে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রাথমিক হিসাবে বন্যায় চট্টগ্রামে ১৫ হাজার ২২৮টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী, সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রাম মহানগরে।
এছাড়া বন্যার কারণে জেলার ৪০৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে হাটহাজারী উপজেলা, যেখানে ১৮৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সাতকানিয়া, মহানগর, চন্দনাইশ, রাঙ্গুনিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায়ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি পানিবন্দী পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করছে।



