ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জরুরি পদক্ষেপের পাশাপাশি ৮টি দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানায় সংগঠনটি। এসময় বক্তারা, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন) ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ও প্রতিবেদন তুলে ধরে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রপত্রিকা, সংবাদমাধ্যম এবং সংগঠনের নিজস্ব সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখত বক্তব্য পড়ে শোনান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। তিনি বলেন, ‘‘গত ৬ মাসে ২৫৭টি সাম্প্রদায়িক ঘটনায় সহিংসতার শিকার হয়েছেন ২৬১ জন মানুষ। হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৪ জন। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ বা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫টি। ধর্মীয় উপাসনালয় হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৬২টি। উপাসনালয়ের জমি দখলের ঘটনা ১৫টি। বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ৪৭টি। অপহরণ, চাঁদা দাবি ও নির্যাতনের ঘটনা ১০টি।’’
প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়, কথিত ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের ঘটনা ৯টি। জোরপূর্বক বাড়িঘর-জমি-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের ঘটনা ২১টি। অন্যান্য ঘটনা ৬টি।
সংখ্যালঘুদের ৮ দফা দাবি তুলে ধরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, ‘‘উসকানিমূলক ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, গুজব ছড়ানোকে বিশেষ ক্ষমতা আইনে ‘ক্ষতিকর কাজ’ গণ্য করে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে হবে। জড়িত ব্যক্তিদের নির্বাচনে প্রার্থিতা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করতে তবে। সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের ‘অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী’ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।’’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রঞ্জন কর্মকার জানান, অস্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ তাদের চাওয়া। সাম্প্রদায়িক কোনো শক্তির কারণে ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত পাক, সেটা তারা চান না।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় বৃহত্তর কোনও কর্মসূচি নেওয়া হবে কি-না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, ‘‘আমরা শান্তি চাই। প্রতিনিয়ত আন্দোলন করতে আমাদের ভালো লাগে না। কিন্তু সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করতে আমরা বাধ্য হব। আমরা দেখতে চাই, সরকার সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করবে। এই সরকারের ওপর আমাদের আস্থা আছে।’’
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপঙ্কর ঘোষ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ, সুনন্দ প্রিয় ভিক্ষু, সাংগঠনিক সম্পাদক পদ্মাবতী দেবী, ছাত্র ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিপংকর চন্দ্র শীল প্রমুখ।



