Friday, September 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথিতে উৎসবের আমেজ, বর্ণিল সাজে ঢাকার রাজপথ

ঢাকেশ্বরীতে গীতাযজ্ঞের মাধ্যমে শুরু হয় জন্মাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম

উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী, যা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি হিসেবে পালিত হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা, শ্রীশ্রী গীতাযজ্ঞ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, সন্ধ্যা আরতি, কীর্তন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সকাল ৮টায় রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গীতাযজ্ঞের মাধ্যমে শুরু হয় জন্মাষ্টমীর আনুষ্ঠানিকতা, যা পরিচালনা করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশন।

উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি পলাশী বাজার, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন, গোলাপশাহ মাজার, গুলিস্তান মোড়, নবাবপুর রোড ও রায় সাহেব বাজার মোড় ঘুরে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়।

বিকেল সাড়ে ৪টায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান এবং হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার। আলোচনা সভা শেষে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অতিথিরা মিছিলের উদ্বোধন করেন।

হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে মা দেবকী ও বাবা বসুদেবের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের এই বার্তা নিয়েই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর দিনটি উদযাপন করেন।

শোভাযাত্রায় নামে মানুষের ঢল। শ্রীকৃষ্ণের রথ, রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি, কংসের কারাগার, রাম-সীতা, লব-কুশসহ শ্রীকৃষ্ণের জীবনের নানা অধ্যায়ের সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন ভক্তরা। ঢাকা মহানগরসহ আশপাশের উপজেলা থেকে ট্রাক, মিনিট্রাক, পিকআপ, ঘোড়ার গাড়ি ও হাতি নিয়ে ভক্তরা যোগ দেন শোভাযাত্রায়। রাজধানীর প্রতিটি মন্দির ও হিন্দু সংগঠনও ধর্মীয় আঙ্গিক বজায় রেখে অংশ নেয় এই আয়োজনে।

এদিকে বৃহস্পতিবার থেকে তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ-ইসকন বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ইসকন স্বামীবাগ আশ্রমে শুক্রবার শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, কীর্তনমেলা, আলোচনা সভা, সন্ধ্যা-আরতি, শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত পাঠ ও রাতে মহাভিষেক অনুষ্ঠান হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার, টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে প্রচারিত হয় বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়া রমনা কালীমন্দির, রাজারবাগের বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দির, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরসহ রাজধানীর বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে আয়োজিত হয় নানা অনুষ্ঠান।

   

About

Popular Links

x