চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দিয়ে চট্টগ্রামে একাধিক হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি সাজ্জাদ গ্রুপের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিতি পান।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ধুমধুমপুর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালানো হয়। যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের যৌথ অভিযানে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, বর্তমানে দুবাইয়ে অবস্থানরত সাজ্জাদ সেখান থেকে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার অ্যাকসেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার দুই দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওতে ইমন পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, তারা ছুরি বা কিরিচ নিয়ে হামলা করেন না, তাদের হামলার ধরন চট্টগ্রামবাসী ভালোভাবেই জানে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা অফিসের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজা ভাঙচুর করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া অফিস থেকে ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানিয়েছিলেন, ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে এবং তাকে ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



