Sunday, August 02, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চা দোকানে এইচএসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ১ বস্তা খাতা জব্দ

সিলেটের একটি টং দোকানে বসে বন্ধুদের সঙ্গে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন অভিযুক্ত প্রভাষক

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১১ পিএম

সিলেটের চায়ের দোকানে বসে বন্ধুদের দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক কলেজের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। সেখান থেকে প্রায় ১ বস্তা খাতা জব্দ করা হয়।

মেট্রোসিটি ওমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেন সোহানের কাছ থেকে খাতা জব্দ করা হয়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন একটি চায়ের টং দোকানে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার (১লা আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টায় উত্তরপত্রের খাতা জব্দ করা হয়েছে বলে জানান সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রভাষক ইকবাল হোসেন রাত সাড়ে ১০টার দিকে চা দোকানে বন্ধুদের নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন। এসময় তার দুই বন্ধুও তার সঙ্গে খাতা কাটছিলেন।

এদিকে, শুক্রবারও রাত সাড়ে ১০টার দিকে একই দোকানে বসে প্রভাষক ইকবাল তার চার বন্ধু নিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন বলে জানান আরেক প্রত্যক্ষদর্শী।

প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “শুক্রবার গাড়ি থেকে নামার আগেই বৃষ্টি শুরু হলে শাবিপ্রবি প্রধান ফটকের পাশের একটি টং দোকানে আশ্রয় নিই। সেখানে দেখলাম দুইজন ছেলে ও দুইজন মেয়ে এসএসসির পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করছেন। একইসঙ্গে তারা চা খাচ্ছিলেন, কেউ কেউ সিগারেটও খাচ্ছিলেন।”

শনিবার রাত ১১টায় এই প্রতিবেদক অনুসন্ধান করতে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। তখন সিলেট মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন উপস্থিত হয়ে এক বস্তা খাতা জব্দ করেন।

এসময় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এই পরিবেশে খাতা মূল্যায়ন করছেন কেন প্রশ্ন করলে ও্ই প্রভাষক বলেন, “আমি খাতা মূল্যায়ন করছিলাম। তাড়াহুড়োর জন্য ওদেরকে (তার বন্ধুদের) নিয়ে কোড নাম্বারটা মিলাচ্ছিলাম।”

এ বিষয়ে ওই শিক্ষকের সঙ্গে খাতা মূল্যায়ন করা শাবিপ্রবি সাবেক শিক্ষার্থী আইরিন লিনজা বলেন, “যার খাতা তিনিই শিক্ষক। তিনি আমার বন্ধু-ব্যাচমেট। আমিসহ এক্স সাস্টিয়ানরা সেখান ছিলাম। তবে এর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

খাতা জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন।

জানা যায়, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক খাতা জব্দ করে নিয়ে যাওয়ার পর সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান পুলিশের সহায়তায় অভিযুক্তকে নিয়ে থানায় যান।

এ বিষয়ে সিলেট জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব বলেন, “অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান থানায় এসে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করছেন। আমরা ওই শিক্ষককে তাদের (শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা) হেফাজতে দিয়ে দিয়েছি।”

   

About

Popular Links

x