Friday, September 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মায়ের মৃত্যুর এক মাস পর সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারালো দুই শিশু

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন রতন

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম

এক মাস আগে হৃদরোগে মাকে হারিয়েছিল ১৩ বছরের মেঘা ও তার ৮ বছরের ছোট ভাই গোপাল। মায়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় বাবাকেও হারালো তারা। এতে দুই শিশুর মাথার ওপর থেকে সরে গেল শেষ আশ্রয়টুকুও।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শরীয়তপুর শহরের ধানুকা স্টেডিয়ামের সামনে বাসের ধাক্কায় নিহত হন তাদের বাবা রতন পোদ্দার (৫৫)। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন রতন। বুধবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুর আন্তজেলা বাসমালিক সমিতির একটি মিনিবাস ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর বাসটি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

পরে স্থানীয়রা বাসটির পিছু ধাওয়া করে চালকসহ মিনিবাসটি আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। গুরুতর আহত রতনকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান রতনের স্ত্রী। এরপর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। এরই মধ্যে বাবাকেও হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে মেঘা ও গোপাল।

শরীয়তপুর আন্তজেলা বাসমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘‌‘আমাদের লোকাল বাসের ধাক্কায় এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এ খবর শুনে আমরা হাসপাতালে গিয়ে দ্রুত তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করি। কিন্তু রাস্তায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আমরা মর্মাহত। মালিক সমিতির সাধ্যমতো নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে।’’

পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘আমরা বাস ও চালককে আটক করেছি। যেহেতু ভুক্তভোগী মারা গেছেন, তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’’

   

About

Popular Links

x