Friday, September 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়, পরিকল্পনা’

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে চায় বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানিয়েছেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীতে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান এ তথ্য জানান।

তারেক রহমান বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি নতুন সরকার এসেছে এবং বাংলাদেশের একটি নতুন দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া। এটি কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি পরিকল্পনা। আমরা এই দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং আর্থিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে আমাদের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চাই।’’

তিনি জানান, পোশাকশিল্প বাংলাদেশের প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এমন কারখানা চাই, যেগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং এমন কর্মসংস্থান চাই, যা মানুষের মর্যাদা তৈরি করবে।’’

ইস্টার্ন রিফাইনারি আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার ও আইএসডিবির মধ্যে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও আইএসডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং আইএসডিবির ডিরেক্টর জেনারেল (কান্ট্রি প্রোগ্রামস) আনাসি আইসামি।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপিসির বর্তমান পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পরিবেশবান্ধব পেট্রোলিয়াম পণ্যের উৎপাদন বাড়বে এবং পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানিনির্ভরতা কমবে।

চুক্তিটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি অর্থায়ন চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি আইএসডিবির আস্থারও বহিঃপ্রকাশ।

অর্থনীতিকে বহুমুখী করতে ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে উৎপাদনকেন্দ্র এবং আঞ্চলিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধির মতো চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘‘কোনো দেশ একা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে না। এখন অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’’

বাংলাদেশ ও আইএসডিবির মধ্যে সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, সাড়াপ্রদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নে আইএসডিবি ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

   

About

Popular Links

x