কুমিল্লার ঘটনায় সারাদেশের মানুষ মর্মাহত জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘‘আমরা আশা করি, রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের বিচারটা সংক্ষিপ্ত সময়ে সমাপ্ত করতে পারব। বিচার করবে আদালত। আমরা সহযোগিতা করব আমাদের আইনানুগ যেসব প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো সম্পন্ন করে চার্জশিট দাখিলের মধ্য দিয়ে।’’
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘এ ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।’’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘এ ঘটনায় যেসব কিশোর জড়িত, তাদের দুইজনের বয়স সম্ভবত ১৮ বছরের বেশি, একজনের কম হতে পারে, এনআইডি চেক করা হচ্ছে। তারা অনেকটা কিশোর অপরাধ চক্রের মতো। তাদের সঙ্গে এই ছেলের সম্পর্ক ছিল, ওঠাবসা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল। প্রায় সময় আড্ডা দিত। খোঁজখবর এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে যা দেখা গেছে, তারা অপ্রতিমের চেয়ে ৫ থেকে ১০ বছর বড়।’’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে পুলিশের আমরা প্রশংসা করতে পারি যে তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে সন্দেহভাজন সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করতে এবং আলামতসহ অন্যান্য বিষয়গুলো জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’’
উল্লেখ্য, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে বলে গত শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অপ্রতিম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে। মা নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল অ্যাকসেসরিজের ব্যবসা করেন।



