Tuesday, September 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাঁওড়ের মাছ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ম্যানেজারের ২০ বছরের কারাদণ্ড

যশোরের জেলা ও দায়রা জজ এস এম নূরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ এএম

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর বাঁওড়ের মাছ বিক্রির সরকারি অর্থ আত্মসাতের মামলায় সাবেক বাঁওড় ম্যানেজার মোল্যা নুরুল আবছারকে বিভিন্ন ধারায় মোট ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ টাকা ২৮ পয়সা জরিমানা করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে যশোরের স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) এস এম নূরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি সিরাজুল ইসলাম। দণ্ডপ্রাপ্ত নুরুল আবছার চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার ঘোষবিলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার ও তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০০২-২০০৩ অর্থবছরে বলুহর বাঁওড়ে মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২১১ মেট্রিক টন। ওই অর্থবছরে মাছ বিক্রি করে মোট ৭০ লাখ টাকা আয় হয়। বাঁওড় প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, বিক্রিত মাছের ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৪২ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা ছিল।

তৎকালীন বাঁওড় ম্যানেজার নুরুল আবছার বিভিন্ন চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর শাখায় মোট ৩৬ লাখ ২১৭ টাকা ৭২ পয়সা জমা দেন। ফলে সরকারি অংশের ৫ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮২ টাকা ২৮ পয়সা তিনি সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন।

এ ছাড়া মাছ বিক্রির অতিরিক্ত অর্থের মধ্যে ২০০৩ সালের ৯ আগস্ট তিনটি ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে মোট ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮১ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে বলে ক্যাশবুকে উল্লেখ করেন নুরুল আবছার। তবে তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের তথ্য যাচাই করে ওই অর্থ জমা না দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়।

দুদকের তদন্তে আরও উঠে আসে, আত্মসাতের ঘটনা আড়াল করতে বাঁওড় অফিসের গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সরিয়ে ফেলেন বা নষ্ট করেন নুরুল আবছার। এসব নথির মধ্যে ছিল ক্যাশবুক, মাছ আহরণ ও হিসাবের বই, আদায়ের রসিদ বই, ট্রেজারি চালান ও বিভিন্ন প্রতিবেদন।

দুদকের কর্মকর্তা মো. ওয়াজেদ আলী গাজী মামলাটি তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ ও ২০১ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড; ৪২০ ধারায় চার বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০১ ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

এ ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তিন বছরের কারাদণ্ড এবং আত্মসাৎকৃত ১৯ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬৩ টাকা ২৮ পয়সা জরিমানা হিসেবে ধার্য করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়। আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি থেকে ওই অর্থ আদায়যোগ্য বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সব সাজা একসঙ্গে চলবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

   

About

Popular Links

x