বরিশাল নগরীর ভাটিখানা এলাকার একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ ঘর থেকে সাবেক স্কুল শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে।
নিহত আমেনা খানম (৬৫) বরিশালের হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের দূর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি মৃত মশারফ হোসেনের স্ত্রী।
আমেনা নগরীর ভাটিখানার রোকেয়া-আজিম সড়কের খালপাড় এলাকার ভাড়া বাসায় একা বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে দেশের দুই স্থানে চাকরিরত।
স্থানীয়রা ও বাড়ির মালিক জানিয়েছেন, এক বছর আগে আমেনা খানম তার বাসার দ্বিতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। তিনি ওই বাসায় একা থাকতেন।
জানা গেছে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে পাশের ভাড়াটিয়া আমেনার রুম থেকে গন্ধ পান। বিষয়টি বাড়িওয়ালা এবং আমেনার বড় ছেলেকে অবহিত করেন। এরপর আমেনার আত্মীয়-স্বজন ওই বাসার সামনে যান। সেখানে যাওয়ার পর তারাও দুর্গন্ধ পান।
এ সময় ঢাকায় ব্যাংকে কর্মরত আমেনার বড় ছেলে রিফাত বাড়িওয়ালাকে অবহিত করেন, তিনি বরিশাল রওনা দিয়েছেন। তাকে না ঘুমানোর জন্য অনুরোধ জানান। ভোর রাতে পুলিশ নিয়ে রিফাত ওই ভবনে আসেন। এরপর বাড়িওয়ালা ও অপর ফ্লাটের বাসিন্দাদের নিয়ে রিফাতের কাছে থাকা চাবি দিয়ে তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে পুলিশ।
বাড়িওয়ালা জানান, বাসার ভিতরে মালামাল এলোমেলো অবস্থায় ছিল। যেখানে আমিনা ঘুমাতেন সেই খাটের উপর তার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানিয়েছেন, নিহতের ছেলের কাছ থেকে ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দেখতে পায়, ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ। পুলিশ তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় আমেনা খানমকে কাপড় দিয়ে হাত পা বাঁধা অবস্থায় খাটের উপরে দেখতে পায় পুলিশ। কক্ষ থেকে গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
উপ পুলিশ কমিশনার বলেন, “তালা বাহির থেকে দেওয়ার কারণে নিহতের পরিবার, স্বজন এবং তার পরিচিতদের প্রতি সন্দেহ বাড়ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”



