নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এক দোকানির গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এতে খলিলুর রহমান (৪৫) নামে ওই ব্যবসায়ী গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের সাহিতপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, খলিলুর রহমান সাহিতপুর বাজারে মনোহারি পণ্যের ব্যবসা করেন। পাশাপাশি দোকানের সামনে বোতলে পেট্রল রেখে বিক্রি করেন। রাত সাড়ে ১০টার কিছু আগে সুমন তার দোকানে গিয়ে বাকিতে সিগারেট ও কিছু টাকা চান। খলিল সিগারেট ও টাকা দিতে রাজি না হলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দোকানের সামনে রাখা বোতল থেকে পেট্রল নিয়ে সুমন খলিলের গায়ে ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দগ্ধ খলিলকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
খলিলের পরিবারের সদস্যরা জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
সান্দিকোনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জুয়েল মিয়া বলেন, “সুমন প্রায়ই খলিলের দোকানে গিয়ে বাকিতে সিগারেট ও টাকা নিতেন। বৃহস্পতিবার রাতে সিগারেট ও টাকা না পেয়ে তিনি খলিলের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে।”
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাকিতে সিগারেট ও টাকা না পাওয়ায় সুমন ওই ব্যবসায়ীর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সুমনকে আটক করা হয়েছে, তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে মামলা করা হবে।”



