Thursday, October 29, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তাহসিফকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন তার বাবা

তাদের বাসা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সুরি নিখোঁজ হওয়ার আগে এক বন্ধুস্থানীয় ছোটভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। পরে তুরাগ নদী থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।

তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিমের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দ্বীপ নামে একজন ফোন করে তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। তাহসিফের বাসা উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনায়েতুল করিম। তিনি জানান, বিমান বাহিনী থেকে তাহসিফের চাকরি যাওয়ার কারণ হিসেবে ‘শৃঙ্খলাজনিত’ বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। পরে তাহসিফ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং নেত্র নিউজে কাজ করেছিলেন।

ছেলের বিষয়ে এনায়েতুল করিম বলেন, “সে ছিল অত্যন্ত জেন্টল প্রকৃতির ও সামাজিক। সিনিয়র-জুনিয়র সবার সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।”

তিনি জানান, মঙ্গলবার দিনভর মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। বাবার জন্যও কিছু কেনাকাটা করেন। সন্ধ্যার পর এক জুনিয়র বন্ধু ও ছোটভাই বাসার নিচ থেকে তাকে ডাকেন।

এনায়েতুল করিম বলেন, “সারাদিন মায়ের সঙ্গে ছিল, শপিং করেছে। আমার জন্যও কিছু শপিং করেছে। সন্ধ্যার পরে জুনিয়র বন্ধু-ছোটভাই বাসার নিচ থেকে ডাকে; বলেছে, ‘কথা বলবে’।

“ওর মাকে বলে যে, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে কথা বলে আসি’। এটা বলে সে নিচে যায়, আর ফেরেনি। এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ফেরে নাই।”

রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মায়ের মোবাইলে একটি বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফিরছেন বলে জানান। তবে ওই বার্তায় তাকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল বলে জানান তার বাবা।

এনায়েতুল করিম বলেন, “এরপর থেকে আমরা আর তাকে লোকেট করতে পারিনি। গতকাল দুপুরে আমি তুরাগ থানায় গিয়েছিলাম, তখন আমাকে বলা হয়েছিল—‘এরকম কোনো ব্যাড নিউজ নাই’।”

তিনি জানান, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উত্তরখান থানা থেকে ফোন করে মরদেহ উদ্ধারের খবর দেওয়া হয়।

ছেলের মরদেহ উদ্ধারের স্থান সম্পর্কে এনায়েতুল করিম বলেন, ওই এলাকায় তার ছেলে কখনো যেতেন বলে তাদের জানা নেই।

দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন তাহসিফ। তার নিজের একটি মোটরসাইকেল ছিল। তবে মাসখানেক আগে দুর্ঘটনায় পড়ার পর পরিবার তাকে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করেছিল।

তাহসিফ মঙ্গলবার মোটরসাইকেল নিয়েই বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার এক স্বজন। তিনি বলেন, “বাইকটি বাসার গ্যারেজে নেই।”

তাহসিফকে ডেকে নেওয়া দ্বীপের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কথা হয়েছে। ওই স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বীপ তাদের জানিয়েছেন, রাতে তারা একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। পরে তাহসিফকে তার বাসার এলাকাতেই রেখে দ্বীপ ফিরে যান।

ওই স্বজন বলেন, “আমরা দ্বীপের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তাহসিফের বাইকটি মিসিং।

“পুলিশ আমাদের কাছে বাইকের ডিটেইলস, ছবি চেয়েছে। আমরা দিয়েছি, পুলিশ এটা বলতে পারবে।”

লাশ উদ্ধারের ঘটনাস্থল উত্তরখান থানার আওতাধীন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, “তারা এখনো কোনো অভিযোগ পাননি, আর বিষয়টি দেখছে নৌ পুলিশ।”

গত জুলাইয়ে একটি পডকাস্টে তাহসিফকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ওই ভিডিও ধারণের কারণে বিমান বাহিনী থেকে তার চাকরি গেছে কি না। জবাবে তিনি বলেছিলেন, “হতে পারে।”

ওই পডকাস্টে ‘আমার দেশ’ পত্রিকার একটি প্রতিবেদন নিয়েও তাকে প্রশ্ন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভিডিওটির বিষয়ে বিমান বাহিনীর তদন্তে বাহিনীর ভেতরে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে তাহসিফের নামও ছিল।

জবাবে তাহসিফ বলেন, “আমার মনে হয়, ‘আমার দেশ’ যে প্রতিবেদনটা করেছে, এটা তারা আসলে কোনো প্রোপাগান্ডা সার্ভ করছে।”

   

About

Popular Links

x