আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিনব কায়দায় পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন বন্দিরা। আদালত থেকে হাজিরা দিয়ে কিংবা থানা থেকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে ফেরার সময় এ ধরনের মাদক পাচার করছে একটি চক্র। কালো টেপে মোড়ানো ক্যাপসুলে ভরে ইয়াবা গিলে ফেলার পর কারাগারে গিয়ে তা বের করে বিক্রি বা সেবন করা হচ্ছে। তবে পেটের ভেতরে ক্যাপসুল ফেটে বন্দির মৃত্যুর চরম ঝুঁকি থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কারা কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে কারাগারে ছোট-বড় সহস্রাধিক মাদকের চালান আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় চালানের ৪৪টি ঘটনায় নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ৩ জন নারী ও ৪১ জন পুরুষ বন্দির পেট ও শরীর থেকে মোট ১৫ হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ছোট ঘটনাগুলোতে কারাবিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
থানার মামলার তথ্য অনুযায়ী, একেকজন বন্দি তাদের পেটের ভেতর সর্বনিম্ন ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পিস পর্যন্ত ইয়াবা বহন করে কারাগারে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। কালো টেপে মোড়ানো প্রতিটি ক্যাপসুলে সাধারণত ৫০ পিস করে ইয়াবা থাকে। গত ১০ মাসে উদ্ধার করা ১৫ হাজার ৫৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে মোট ৩১১টি ক্যাপসুল থেকে।
কারা কর্তৃপক্ষের মতে, শুধু বাইরে থেকে মাদক প্রবেশের চেষ্টাই নয়, কারাগারের অভ্যন্তরেও মাদক সেবনের একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানান, আসামিরা ইয়াবা গিলে ফেলার পাশাপাশি মলদ্বারসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকিয়ে মাদক আনার চেষ্টা করেন। প্রতিদিন দুই-তিনটি ছোট-বড় মাদকের চালান ধরা পড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক পাচার ঠেকাতে কারাগারের প্রবেশপথে তিন স্তরের তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন বন্দিদের সাধারণ ওয়ার্ডে না পাঠিয়ে অন্তত দুই দিন আলাদা পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।
কারাগারে অতিরিক্ত বন্দি চাপের কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ২ হাজার ২৪৯ জন বন্দির ধারণক্ষমতার এই কারাগারে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ বন্দি অবস্থান করছেন, যা ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি। এর মধ্যে অন্তত সাড়ে তিন হাজার বন্দিই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলার আসামি।
এ পরিস্থিতি উত্তরণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য দ্রুত একটি পৃথক ‘নারকোটিক কারাগার’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন কারা অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি প্রিজন মো. ছগির মিয়া। তাঁর মতে, সাধারণ বন্দিদের কাছ থেকে মাদক মামলার আসামিদের আলাদা রাখতে পারলে পুনর্বাসন কার্যক্রমসহ কারাগারের অভ্যন্তরে মাদক নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।



