Sunday, November 01, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শফিকুর রহমান: সাত দফা দাবি না মানলে একদফা অনিবার্য হয়ে উঠবে

শনিবার কুষ্টিয়ায় আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ এএম

সাত দফা দাবি মেনে না নিলে একদফা আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “দাবি পূরণ না হলে জনগণের অধিকার রক্ষায় ১১-দলীয় ঐক্য একদফার আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।”

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে সাত দফা দাবিতে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কোনো দাবিই দলীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নয়। সব দাবি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। সাত দফা মেনে নেওয়া হলে একদফার প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি পূরণ না হলে একদফা অনিবার্য হয়ে উঠবে। দেশের স্বার্থে ও জনগণের অধিকার রক্ষায় তারা সেই কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।

সংসদে সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবির বিষয়ে জামায়াতের আমির জানান, জনগণের ভোটে গঠিত সংসদের পাশাপাশি একটি সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রত্যাশা ছিল তাদের। সংসদে বসেই ওই পরিষদ সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে - এমনটাই তারা চেয়েছিলেন।  

তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, এ কারণে সরকার ধরাকে সরা জ্ঞান করছে।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, “ইতিহাসে যখনই জনগণের রায় উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীকে তার করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।”

ঢাকা থেকে লংমার্চ করে কুষ্টিয়ায় আসার প্রসঙ্গ তুলে সমাবেশে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি জানতে চান, একদফার প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় যেতে হলে তাঁরা প্রস্তুত কি না। অর্থ ও খাবারের ব্যবস্থা না থাকলেও জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকার করেন।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির বিরুদ্ধে জনগণের সঙ্গে ওয়াদা ভঙ্গ, দুর্নীতি ও লুটপাটের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, “আট মাসের মধ্যে তাদের আন্দোলনে নামতে হবে, এমনটা তারা চাননি। তবে পরিস্থিতির কারণে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।”

সচিবালয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত দলীয়করণের অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, “সারের ডিলারশিপ দিতে ১২ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “বাংলাদেশকে অন্য কোনো রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। সাত দফা দাবি পূরণে সরকারের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়া না পেলে যেকোনো সময় তা একদফায় রূপ নিতে পারে।” একদফার কর্মসূচি এলে ঢাকামুখী আন্দোলনে অংশ নিতে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, তারা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চান। দেশে সুশাসন, মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুবিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকারের আমলেও মানুষ এসব অধিকার পাচ্ছে না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধে সবাইকে আরও আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হবে। এ আন্দোলনে তারা জনগণের সঙ্গে আছেন বলেও জানান তিনি।

কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার এ কে এম আলী মুহসিন ও সেক্রেটারি এনামুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হান্নান মাসউদসহ ১১-দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন শরিক দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবং সংসদ সদস্যরা। এনসিপি, এবি পার্টি, জাগপা, লেবার পার্টি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতারাও বক্তব্য দেন।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেট থেকে ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক হয়ে বহরটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ, খুলনা, রূপসা সেতু, যশোর ও ঝিনাইদহ অতিক্রম করে। পথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনেও যায় গাড়িবহর।

রাত ১১টার দিকে প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বহরটি কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। এ যাত্রায় ১৯টি জেলা অতিক্রম করে এবং বিভিন্ন স্থানে একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

লংমার্চের নেতৃত্ব দিয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে রাত ১১টা ৩৩ মিনিটে সমাবেশস্থলের মঞ্চে ওঠেন শফিকুর রহমান। রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ছয় মিনিট কথা বলেন তিনি। রাত ১১টা ৫৭ মিনিটে লংমার্চের কর্মসূচি শেষ হয়।

এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১-দলীয় ঐক্য। খুলনা বিভাগের কর্মসূচির পর আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে জোটটির।

   

About

Popular Links

x