Friday, July 17, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জানাজার ‘সম্মান’ পেলেন দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর আরও এক নারী

প্রথমবার জানাজার নামাজ পড়িয়েছিলেন ইমাম গোলাম মোস্তফা। ব্যাপক সমালোচনার কারণে এবার তিনি ইমাম হতে রাজি হননি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:৫৩ পিএম

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নারীদের কেউ মারা গেলে জানাজা পড়ানো হতো না। মাত্র কিছুদিন আগে তাদের সেই “সম্মান” দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান

ওসি আশিকুরের সেই উদ্যোগ থেমে যায়নি। এবার জানাযার নামাজ পড়ে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়েছে দৌলতদিয়ার মৃত যৌনকর্মী রিনা বেগমের (৬৫)।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে যৌনপল্লী সংলগ্ন গোরস্থানের মাঠে জানাজার নামাজ শেষে রিনা বেগমকে দাফন করা হয়। জানাজায় ইমাম ছিলেন গোয়ালন্দ ঘাট থানা জামে মসজিদের ইমাম মো. আবু বক্কার সিদ্দিকি।

অংশ নিয়েছেন- রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফকির আব্দুল জব্বার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসক ও অপরাধ) মো. সালাউদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ হেডকোয়াটার্স) মো. ফজলুল করিম, গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমানসহ স্থানীয়রা।


আরও পড়ুন- দৌলতদিয়ার এক যৌনকর্মীর জানাজার ‘সম্মান’ পাওয়ার গল্প


জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর নারীদের মানবিক দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী রাজবাড়ী জেলা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয়টি কারো উপর চাপানো ঠিক নয় তাই গোয়ালন্দ ঘাট থানা মসজিদের ইমামকে দিয়ে এবারের জানাযার নামাজ পড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই রীতি অব্যাহত থাকবে।

দৌলতদিয়া পূর্বপাড়া যৌনপল্লীর ‘‘অসহায় নারী ঐক্য সংগঠন’’ এর সভানেত্রী ঝুমুর বেগম বলেন, ‘‘আগে এখানে কেউ মারা গেলে তাকে নদীতে ভাসানো বা মাটিচাপা দেওয়া হতো। এখানকার বেশিরভাগ নারীই মুসলিম ধর্মাবলম্বী হওয়ায় আমরা মারা গেলে যেন জানাজা আর দাফন হয় প্রশাসনের কাছে এমন দাবি জানিয়ে আসছিলাম। সেই দাবি মেনে এখন আমাদের জানাজার ব্যবস্থা হয়েছে, এটা ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা যে কেউ মারা গেলে থানায় খবর দেই। আমাদের কেউ মারা গেলে এখন প্রশাসনের সহযোগিতায় ধর্মীয়ভাবে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।”


আরও পড়ুন- ওসির কক্ষে ঢুকতে লাগে না অনুমতি, ডাকতে হয় না স্যার


উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশিকুর রহমানের উদ্যোগে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া বা মাটি চাপা দেওয়ার দীর্ঘ প্রথা ভেঙে প্রথমবারের মতো যৌনকর্মী হামিদা বেগমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

হামিদার জানাজার নামাজ পড়িয়েছিলেন ইমাম গোলাম মোস্তফা। ব্যাপক সমালোচনার কারণে এবার তিনি জানাজায় ইমাম হতে রাজি হননি।

   

About

Popular Links

x