নারায়ণগঞ্জের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ৫০% ভোট গ্রহণও সম্পন্ন হয়নি। ভোটারদের উপস্থিতি ও আগ্রহ কম থাকায় ভোট গ্রহণ কম হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রগুলোর প্রিজাইডিং অফিসাররা। কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, ৯২ নম্বর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২৭.৩৩%, ৯৩ নম্বর কেন্দ্রে ৪০.৮%, ৯৪ নম্বর কেন্দ্রে ৩১.৫৮%, ৯৫ নম্বর কেন্দ্রে ৪৮.৭০%, ৯৬ নম্বর কেন্দ্রে ৫১.৭% এবং ১০০ নম্বর কেন্দ্রে ৪৫.৫%।
রবিবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, সকালের দিকে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরব উপস্থিতি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি কমতে শুরু করে।
বেলা ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, ভোটারদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ইভিএম মেশিনে ফিঙ্গার না মেলায় অনেকেই ভোট না দিয়ে ফিরে যান। তাদের মধ্যে একজন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাচ্চু মিয়া। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “একবার বলে স্লিপ নিয়ে আসেন। আরেকবার বলে এটা নিয়ে আসেন, ওটা নিয়ে আসেন। ধুর ভোটই দিব না।”
ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি, মেশিন লোডিং দেখাচ্ছে। আরও কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে তা জানি না।”
প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম আজাদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “৯টি বুথে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭৫৮ জনের ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। যা ৪৭.৫%। অথচ মোট ভোটার ৩৬৩৯ জন। অবস্থা দেখেই বুঝতেই পারছেন ভোটারদের আগ্রহ কম। তাই উপস্থিতিও কম।”
১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যানিকেতন হাইস্কুল ঘুরে দেখা যায় ভোটারদের উপস্থিতি থাকলেও ঠিকঠাক ইভিএমের ব্যবহার করতে না জানায় বিরক্ত হয়ে ফিরে যাচ্ছেন অনেক ভোটার।
সত্তরোর্ধ্ব মাকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন আছিয়া খাতুন। কিন্তু ভোট দিতে যথাযথ তথ্য না পাওয়ায় ফিরে যাচ্ছেন। তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “১০০ টাকা খরচ করলাম কিন্তু কেউ ঠিকমতো বলে না কি করতে হবে। তাই আর দরকার নাই বাড়িত জাইগা। ভোট দিয়া কি করমু। জিতলে কি আমাগো দিয়া দিবো?”
১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের প্রিজাইডিং অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, ১০টা বুথের মধ্যে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুই হাজার ৯৭১ এর মধ্যে এক হাজার ৩৯ টি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। একই কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার মো. কামাল হোসেন জানান, ৯টা বুথে ১টা পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৯১৮ জনের মধ্যে ৯৯৫টি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
১৬ নং ওয়ার্ডের শিশু বাগ বিদ্যালয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে বিড়ম্বনার কথা বলতে গিয়ে ভোটার আফতাব মিয়া বলেন, “সকাল ৯ টা থাইকা খাড়ায় আছি এখন ১১ টা বাজে কিন্তু ভোট দিতে পারতেছি না। কয়েকজনের আঙুলের ছাপ মিলতাছে না। আগেই তো ভালা আছিলো, সিল মাইরা ভোট দিতাম আর চইলা যাইতাম। এখন ২ ঘণ্টা পার হইয়া যাইতাছে ভোট হইতাছে না। সরকার বাতিল মাল নিয়া আসছে।”



