Friday, June 12, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে এসে শুনলেন ‘সময় শেষ’

ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নিপুণ তখন নীলফামারীর লক্ষীচাপের নিজ বাড়িতে। ওই রাতে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে নীলফামারী থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন নিপুণ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে তার ১২টা পেরিয়ে যায়

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:০২ পিএম

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারলেন না নীলফামারীর সদর উপজেলার লক্ষীচাপ এলাকার নিপুণ বিশ্বাস।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এসে এমন দুস্বঃপ্নের মুখোমুখি হন তিনি। অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকা পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

রবিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেয় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তির জন্য বিবেচিত শিক্ষার্থীদের বলা হয়, সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে ভর্তি হতে হবে। কিন্তু কী করে সম্ভব? ভর্তি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নিপুণ তখন নীলফামারীর লক্ষীচাপের নিজ বাড়িতে। ওই রাতে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে টাকা ধার করে নীলফামারী থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা দেন নিপুণ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে তার ১২টা পেরিয়ে যায়।

তবে নিপুণ বিশ্বাস এ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জানতে পারেন রোববার রাত সাড়ে ১১টায়। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হতে না পারায় ভর্তি হতে পারেননি নিপুণ। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। তার বাবা প্রেমানন্দ বিশ্বাস পেশায় একজন নরসুন্দর। দুই ভাইয়ের মধ্যে বড় মেধাবী নিপুণ ছোটবেলা থেকে আর্থিক অনটনের শত বাধা পেরিয়ে নীলফামারীর মশিয়ুর রহমান কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে না পেরে পরিবারের কাছে না ফিরে হতাশায় ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন ওই শিক্ষার্থী।

নিপুণ বিশ্বাস বলেন, “রোববার সাড়ে ৫টার দিকে যবিপ্রবির ওয়েবসাইটের নোটিশে ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। আমার স্মার্টফোন না থাকায় এ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখতে পারিনি। যবি থেকে আমার মোবাইল নম্বরে ভর্তির জন্য কল বা মেসেজ দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। মাঝরাতে আমার একজন বড় ভাই আমাকে ফোন করে ভর্তির বিষয় জানালে আমি তাৎক্ষণিক প্রতিবেশী ও স্বজনদের কাছ থেকে ২৩ হাজার টাকা যোগাড় করি। রাতেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আসার জন্য ১৫ হাজার টাকায় রিজার্ভে একটি প্রাইভেট মাইক্রোবাসে যবিপ্রবির উদ্দেশে রওনা দেই। কিন্তু যশোর থেকে নীলফামারীর দূরত্ব অনেক বেশি হওয়ায় এবং রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাতে আমার বেলা ১২টা ৮ মিনিট বেজে যায়।”

এরমধ্যে ১০টার দিকে আমার বিষয়ে একজন বড় ভাই ডিন স্যারের সঙ্গে এ সমস্যার বিষয়ে কথা বলেন। কিন্তু আমি আসার পরে জানতে পারি মেরিট লিস্টে আমি প্রথমে থাকার পরেও তৃতীয় সিরিয়ালে থাকা শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেওয়া হয়েছে। এরপর আমি অনেক অনুনয়-বিনয় করলেও তারা আমাকে ভর্তি নেয়নি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. তানভীর ইসলাম বলেন, “রোববার দুপুরে একজন শিক্ষার্থী ভর্তি বাতিল করায় আমরা ৩য় ভর্তি বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করি। আমাদের উপাচার্য স্যারের নির্দেশনা ছিল ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সকল ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। এরই প্রেক্ষিতে আমরা ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আজকে আমাদের তিনটি বিভাগসহ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির কাজ ছিল। আমরা সময় বাড়িয়ে বেলা ১২টায় শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হতে আসা একজন শিক্ষার্থী থাকায় আমরা তাকেই ভর্তি করি। নীলফামারী থেকে আসা নিপুণ নামে ওই ছেলেটির বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই। নিয়মের মধ্যে থেকেই আমাদের অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্তে যেতে হয়।”

   

About

Popular Links

x