Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১৯ দিন পর স্কুলে ক্লাসে শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের ছেলে শ্রেষ্ঠ

 হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে শ্রেষ্ঠ মণ্ডল মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৭ পিএম

হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও গণিতের শিক্ষক। তার ছেলে শ্রেষ্ঠ মণ্ডল একই স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিজ্ঞান শিখিয়ে রোষানলের শিকার হয়ে বাবা কারারুদ্ধ হলে স্থানীয়দের কটূক্তির মুখে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয় শ্রেষ্ঠ।

তবে রবিবার (১০ এপ্রিল) বাবা হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল কারামুক্ত হলে ১৯ দিন পর শ্রেষ্ঠ আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করে। এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণ।

গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির এক ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার সময় শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ধর্ম ও বিজ্ঞানের পার্থক্য বোঝানোর চেষ্টা করেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোনে তার বক্তব্য রেকর্ড করে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হলে শুরু হয় আলোচনা।

পরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে কয়েকজন শিক্ষার্থী। ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় একদল লোক বিক্ষোভও করে এলাকায়। তখন পুলিশ গিয়ে বিক্ষুব্ধদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হৃদয় মণ্ডলকে তার বাসা থেকে আটক করে নিয়ে যায়।

গ্রেপ্তারের ১৯ দিনের মাথায় রবিবার বিকেল ৪টা ৫০মিনিটে জামিনে মুক্তি পেয়ে মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন হৃদয় মণ্ডল।

বাবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরেরদিনও স্কুলে গিয়েছিল ৫ম শ্রেণি “খ”  শাখার “ফার্স্ট বয়” শ্রেষ্ঠ মণ্ডল। কিন্তু স্কুলের অন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেষ্ঠকে আসামির ছেলে বলে অপমান করে। স্কুল থেকে ফিরে মাকে এই কথা জানাতেই ছেলেকে তিনি স্কুলে যেতে মানা করে দেন।

শ্রেষ্ঠ মণ্ডলের কথায়, “স্কুলে যেতে না পেরে খারাপ লাগছিল। আমার বাবাও তখন কারাগারে ছিলেন। আজ স্কুলে যেতে অসুবিধা হয়নি। কেউ আমাকে কটু কথাও বলছে না। আমার বন্ধুরাও কোনো প্রশ্ন করেনি। স্কুলে আজ তিনটি ক্লাস করেছি। বাসা স্কুলের পাশেই হওয়ায় ফিরতেও কোনো অসুবিধা হয়নি।”

এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন আহমেদ  বলেন, “শ্রেষ্ঠ অত্যন্ত মেধাবী। ওই ঘটনার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে ছিল। শ্রেষ্ঠর স্কুলে আসা বন্ধ ছিল। এখন স্কুলের একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি শ্রেষ্ঠকে বাসা থেকে নিয়ে আসা ও স্কুল শেষে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করবেন।”

এদিকে, হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গত দুই দিন তার পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানোর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এমনকি হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল কারামুক্ত হলেও তিনি তার পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন।

হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের শাশুড়ি রেনুকা হাওলাদার  বলেন, “আজ ভোর ৬টায় বাসার ছাদে হাঁটাহাটি করছিলাম। এ সময় একজন যুবক ইট হাতে নিয়ে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে- বাসার বাইরে যেন না আসি। আমাকে গালাগাল করে। এরপর আমি ভয়ে বাসার ভেতর চলে যাই।”

হুমকি পাচ্ছেন হৃদয় মণ্ডলের গৃহকর্মী অনিতা সাহাও। তিনি বলেন, “রবিবার দুপুর ১টায় হৃদয় মন্ডলের বাসার কাছে ৪-৫ জন যুবক আমাকে ধমক দেয়। আমি ভয়ে ভেতরে চলে যাই।”

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দেব বলেন, “হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের পরিবারের নিরাপত্তা সামান্যতম বিঘ্নিত হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছি। পুলিশ তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তাহীন হতে দেবে না। তার জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার আবেদন পেলে বিবেচনা করা হবে। তিনি আবেদন না করলেও পুলিশ নিরাপত্তা দেবে।”

About

Popular Links