Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হৃদয় মণ্ডলকে কেন ফাঁসিয়েছিল শিক্ষার্থীরা?

শৃঙ্খলার বিষয়ে তার কঠোরতার কারণে কিছু ছাত্র এবং শিক্ষক ক্ষুব্ধ ছিলেন বলে মনে করেন হৃদয় মণ্ডল

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২২, ০১:২৮ পিএম

শিক্ষকদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং ছাত্রদের অত্যাধিক স্বাধীনতার কারণেই মুন্সিগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মনে করেন স্কুলের শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভুক্তভোগী নিজেই।

শিক্ষক এবং তার ছাত্রদের মধ্যে কথোপকথনের ফাঁস হওয়া একটি অডিও শুনে এটি বোঝা যায় যে, ঘটনাটি রেকর্ড করার সময় ছাত্ররা ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষককে বিতর্কের জন্য প্রলুব্ধ করছিল।

শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, এখানকার অনেক ছাত্রই খুব বেশ ধর্মী পালনকারী পরিবার থেকে এসেছে, তবে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের প্রতি চরম মাত্রায় শিথিলতা দেখান। ছাত্ররা এই শিথিলতার সুযোগে যা খুশি তাই করে যাচ্ছে।

কারাগারে পাঠানোর ১৯ দিন পর জামিন পান হৃদয় মণ্ডল। তিনি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং কিছুদিনের মধ্যে মুন্সিগঞ্জে নিজ বাসভবনে ফিরবেন বলে আশা করছেন।

কি ছিল কথোপকথনে?

হৃদয় মণ্ডল সাধারণত দশম শ্রেণির খ বিভাগের ক্লাস নেন। তবে তিনি প্রায়ই কোনো শিক্ষকের অনুপস্থিতির ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে ক্লাস নেন। ঘটনার দিন তিনি দশম শ্রেণির ক ও খ বিভাগের ক্লাস একসঙ্গে নিচ্ছিলেন।

ক্লাস চলাকালীনই ক বিভাগের কয়েকজন ছাত্রের সঙ্গে হৃদয় মণ্ডলের বির্তক শুরু হয়। তারা যুক্তি দিয়েছিল যে, বিজ্ঞান ধর্ম থেকে উদ্ভূত হয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষক যুক্তি দিয়েছিলেন যে বিজ্ঞান এবং ধর্মের কোনও সম্পর্ক নেই।

অডিও ক্লিপে হৃদয় মণ্ডলকে বলতে শোনা যায়,“ধর্ম এবং বিজ্ঞান – এই দুটির মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। একটি বিশ্বাসের বিষয়, এবং অন্যটি প্রমাণের ওপর নির্ভর করে।” 

এ সময় একজন ছাত্র "দ্য থিওরি অব এভরিথিং", "প্যারাডক্সিক্যাল সাজ্জাদ" এবং বিভিন্ন ওয়াজের উল্লেখ করে যুক্তি চালিয়ে যান।


আরও পড়ুন: কারামুক্ত হলেন বিজ্ঞান শিখিয়ে রোষানলের শিকার হৃদয় মণ্ডল


এক প্রশ্নের জবাবে হৃদয় মণ্ডল বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা একজন হুজুর (মুসলিম আধ্যাত্মিক নেতা) কীভাবে বিজ্ঞান সম্পর্কে জানেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজস্ব জ্ঞানের পরিধি বাড়ানো জন্য নিজেদেরই ধর্মীয় বই পড়তে বলেন।

কোন বিষয় ছাত্রদের উত্সাহিত করেছিল?

হৃদয় মণ্ডল অভিযোগ করেন, ঘটনার পেছনে শিক্ষকদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব একটি বড় কারণ।

তিনি জানান, আন্তরিকতার সঙ্গে পড়ান বলে অনেক শিক্ষার্থী তার কাছে প্রাইভেট পড়তে আসে। এ কারণে কিছু শিক্ষক তার প্রতি ঈর্ষান্বিত এবং তিনি ক্লাস চলাকালীন তাদের প্রাইভেট পড়ানোর ব্যাপারটির বিরোধীতা করতেন বলেও দ্বন্দ্ব কাজ করতো।


আরও পড়ুন: হৃদয় মণ্ডলের অভিযোগ: স্কুলের রেষারেষির কারণে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে


হৃদয় মণ্ডল শৃঙ্খলার বিষয়ে খুব কঠোর, এই বিষয়টিও কিছু শিক্ষার্থীকে ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কিছু শিক্ষক প্রতিশোধের চেষ্টায় তাকে ফাঁসানোর জন্য শিক্ষার্থীদের এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে পারেন বলেও তার ধারণা।


আরও পড়ুন: দেড় মাস আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল


তবে হৃদয় মণ্ডল কেনো শিক্ষক বা ছাত্রদের নাম উল্লেখ করতে রাজি হননি। এছাড়া, এ ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত থাকতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি আগে স্কুলের স্টাফ কোয়ার্টারে থাকতেন। কিন্তু একদিন, তার স্ত্রীকে বোরকা বা হিজাব না পরার জন্য কয়েকজন ছাত্র কটূক্তি করে। পরে তিনি কোয়ার্টার ছেড়ে পাশের একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।


আরও পড়ুন: শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ কতদূর


তিনি বলেন, "এখানের পরিবারগুলিকে খুব ধার্মিক বলে মনে হয়, তবে তারা তাদের সন্তানদের যা খুশি তাই করতে দেন।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, “ অভিভাবকদের শিথিলতার কারণে এখানকার কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সামনে ধূমপান করতে বা স্কুলের মাঠে গাঁজা খেতেও দ্বিধা করে না।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীরা জানে যে তার অন্যায় করলেও শাস্তি হবে না, এ জন্য তারা এসব কাজে আরও বেশি উৎসাহিত হয়।”

About

Popular Links