Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আদালত: গোঁড়ামি-কুসংস্কারের বিরুদ্ধে জাফর ইকবালের অবস্থান সর্বজনবিদিত

২০১৮ সালের ৩ মার্চ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালানো হয়

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২২, ০৮:১৮ পিএম

জনপ্রিয় লেখক-কলামিস্ট এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) সাবেক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলায় একটি পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন আদালত।

পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ধর্মীয় গোঁড়ামি, কুসংস্কারের বিরুদ্ধে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও প্রগতিশীলতার পক্ষে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের অবস্থান সর্বজনবিদিত।

তিনি শাবির একজন প্রথিতযশা শিক্ষক। শিক্ষকতার বাইরেও তিনি শিশু সাহিত্যিক এবং জনপ্রিয় লেখক। বিজ্ঞান বিষয়ে এবং শিশুতোষ গ্রন্থ রচনা করে জাতির মননশীলতা গঠনে ভূমিকা পালন করে চলেছেন ড. জাফর ইকবাল।

আদালত মামলার পর্যালোচনায় উল্লেখ করেন, “আসামি ফয়জুল ‘মুফতি জসিম উদ্দিন রহমানি’র জিহাদী লেকচার, বিভিন্ন বই, অডিও, ভিডিও ক্লিপ দেখে জিহাদী ও উগ্রবাদী কর্মকান্ডে উদ্বুদ্ধ হন। তিনি ড. জাফর ইকবালের শিশুতোষ বই “ভুতের বাচ্চা সোলাইমান”-এর কাহিনিতে ধর্ম অবমাননার কাল্পনিক অভিযোগ তুলে লেখককে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো পবিত্র স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে হত্যার জন্য জন্য উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। তার এই কাপুরুষোচিত হামলা ছাত্র-শিক্ষক-জনতা তথা দেশবাসীকে হতভম্ভ করেছে।”

আদালত তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, “ইসলাম ধর্মের প্রকৃত মর্মবাণী না বুঝে নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করাকে পূণ্যের কাজ মনে করে আসামি এ বর্বর হামলা চালিয়েছেন। তার এই কাজ নিঃসন্দেহে একটি সন্ত্রাসী কাজ এবং আরও সুস্পষ্টভাবে বললে এটি ধর্মীয় সন্ত্রাস ছাড়া কিছুই নয়। শুধুমাত্র লেখকের ভিন্নমত প্রকাশের কারণে তার ওপর চালানো এই আক্রমণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।”


আরও পড়ুন- অধ্যাপক জাফর ইকবাল হত্যাচেষ্টা: একজনের যাবজ্জীবন, খালাস ৪


আলোচিত এ হামলার প্রায় চার বছর পর মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব প্রধান আসামি ফয়জুল হাসান ওরফে ফয়েজকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। মামলায় ফয়জুলের বন্ধু মো. সোহাগ মিয়াকে ৪ বছরের কারাদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ফয়জুলের বাবা আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, মামা ফজলুর রহমান ও ভাই মো. এনামুল হাসানকে খালাস করা হয়েছে।

আদালত প্রধান আসামি ফয়জুলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

অন্যদিকে, সোহাগকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

২০১৮ সালের ৩ মার্চ বিকেলে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(শাবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক অনুষ্ঠানে জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত জাফর ইকবালকে প্রথমে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিএমএইচে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ সময় হামলাকারী ফয়জুল হাসানকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্র-শিক্ষকরা।

পরে, শাবির তৎকালীন রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জালালাবাদ থানায় মামলা করেন। ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর চার্জ গঠনের মাধ্যমে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এর আগে ২৬ জুলাই ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জালালাবাদ থানার তৎকালীন ওসি শফিকুল ইসলাম।

এ মামলার ৬২ সাক্ষীর মধ্যে ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে গত ১০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। এরপর গত ২১ ও ২২ মার্চ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

   

About

Popular Links

x