Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সরকারি কর্মকর্তার ঘুষ-দুর্নীতি, বক্তব্য জানতে গিয়ে লাঞ্ছিত দুই সাংবাদিক

‘আমার অফিসে সাংবাদিক এলে ইউএনও অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে।‌ তোরা কি অনুমতি নিয়ে এখানে আইছোস’

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:০১ পিএম

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে দুই সাংবাদিক বক্তব্য জানতে গেলে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন তিনি। ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক আজকের পত্রিকার মেলান্দহ উপজেলা প্রতিনিধি রকিব হাসান ও ভোরের কাগজের মেলান্দহ উপজেলা প্রতিনিধি সাকিব আল হাসান।

বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত ৭টার দিকে মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের বিষয় জানতে বুধবার বেলা ১১টার দিকে তারা চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “কে অভিযোগ করেছে তার নামে মানহানি মামলা করবো। আমার অফিসে সাংবাদিক এলে ইউএনও অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে আসতে হবে।‌ তোরা কি অনুমতি নিয়ে এখানে আইছোস?”

পরে ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রশ্ন করলে চেয়ার থেকে উঠে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক রকিব হাসান নয়ন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বুধবার দুপুরে ভূমি অফিস কার্যালয়ে সামনে দিয়ে মেলান্দহ পৌর শহরে যাচ্ছিলাম। যাওয়ার সময় দেখি ভূমি কার্যালয়ে জমি সংক্রান্ত ও ঘুষ কেলেঙ্কারি নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা চলছে। পরে ওই ভূমি অফিস কার্যালয়ে যাই আমারা। ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসদাচরণ ও‌ দরজা বন্ধ করে ঘুষ বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আমাদের ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে দেন।”

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাকিব আল হাসান বলেন, “ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলামের বিরুদ্ধে কয়েকদিন আগেই ঘুষ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগে করেন মুক্তা বেগম নামে এক স্বামী পরিত্যক্তা নারী। ২৫ জানুয়ারি দুপুরে ভূমি অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথে দেখি বাগ্বিতণ্ডা চলছে। পরে আমারা ওই ভূমি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে গেলেই আমাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও লাঞ্ছিত করে বের করে দেন। ওই কর্মকর্তা বিরুদ্ধে ইউনিয়নের শত শত মানুষের অভিযোগ রয়েছে।”

মুক্তা বেগম নামে একজন অভিযোগ করে বলেন, “৫ শতক জমি খারিজ (নামজারি) করতে আমার কাছে থেকে ছয় হাজার টাকা নিয়েছেন ছানাউল। পরে খারিজের কাগজ ইউএনও অফিসে নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “ছানাউল আমার কাছে থেকে টাকা নিয়ে আমার সঙ্গে অসদাচরণ করে।”

স্থানীয়রাও ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ করেন জানান, চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রুমে দরজা বন্ধ করে ঘুষ নেন। তার কাছে কোনো ধরনের কাজ নিয়ে গেলে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তার ঘুষ বাণিজ্য বন্ধ করতে মানববন্ধন করবেন বলেও জানান।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে চরবাণী পাকুরিয়া ইউনিয়নের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ছানাউল ইসলাম বলেন, “আমার সঙ্গে কোনো ঘটনা ঘটেনি।” এ বলে মোবাইল ফোনে সংযোগ কেটে দেন।

মেলান্দহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সেলিম মিঞা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়ে আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ওই ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

About

Popular Links