বড় ধরনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়াই মৌসুমের মাত্র ৪২ কার্যদিবসের মাথায় দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে আখ মাড়াই আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর এবারই সর্বনিম্ন কার্যদিবসে বন্ধ হলো দেশের অন্যতম বৃহৎ এই চিনিকলটি।
শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে “আখেরি হুইসেল” বাজিয়ে আখ মাড়াই বন্ধ করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল কেরু চিনিকলে আখ মাড়াই।
আখ মাড়াই বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, মৌসুমের ৫৩ দিনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আখের অভাবে ৪২ কার্যদিবসের মাথায় বন্ধ করা হয় ২০২২-২৩ মৌসুমের আখ মাড়াই। এ বছর চিনিতে প্রতিষ্ঠানটির ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকা লোকসান হবে।
চিনিকলের কারখানা বিভাগ জানায়, চলতি ২০২২-২৩ মৌসুমে চিনি আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে দিয়েছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশন। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৬.৫০% চিনি আহরণের হিসাব ধরে ৫৩ কার্যদিবসে ৬২ হাজার টন আখ মাড়াই করতে হবে। এতে চিনি উৎপাদন হবে তিন হাজার ৮৮৪ টন। তবে চলতি মাড়াই মৌসুমে ৪২ দিনে মাত্র ৪৬ হাজার ৬০ মেট্রিক টন আখ মাড়াই করা হয়েছে। এতে ২ হাজার ২১৯ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন হবে বলে জানায় চিনিকল কর্তৃপক্ষ। যার হার ৫.৫%। এতে চিনি কারখানা এবারও লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২১-২২ সালে চিনি উৎপাদন মৌসুমে ৭০ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছিল দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানিকে। এবারও লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় অনেক টাকা লোকসান হবে প্রতিষ্ঠানটির।



