অন্যান্য দিনের মতোই যানজটে লেগে ছিল গুলিস্তানের সড়কে। গায়ে গা লাগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বাস, রিকশা, প্রাইভেটকার। তখন বাজে আনুমানিক ৪টা ৪৫ মিনিট। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে সিদ্দিকবাজারের সাত তলা পৌর ভবনটি। ধোঁয়ার কারণে হাত দূরের কোনোকিছুও দেখা যাচ্ছিল না।
ওই রাস্তা দিয়ে তখন যাচ্ছিলেন উবারের গাড়ি চালক আনোয়ার হোসেন। বিস্ফোরণের পর তিনি দেখলেন, তার গাড়ির উপর উড়ে এসে পড়েছেন পায়জামা পাঞ্জাবি পরা এক লোক। তিনি দেখলেন ওই লোকটার মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছে। তিনি ধারণা করলেন, মাথার উপর কোনো ভবন বুঝি ধসে পড়েছে। এ আতঙ্কে ওই অবস্থায় কিছুদূর চালিয়ে এসে সড়কের একপাশে থামালেন গাড়ি।
বিস্ফোরণের পর আনোয়ারের মত অনেকই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন। চারিদিক ধুলোয় ঢেকে যাওয়ায় অজানা আতঙ্ক পেয়ে বসেছিল তাদের। বিস্ফোরণে ভবনটির দেয়াল ভেঙে ভেতরের জিনিসপত্র বাইরে এসে ছিটকে পড়েছে। ভাঙা টুকরোর আঘাতে আহত হয়েছেন অনেক পথচারী ও আশেপাশের মানুষ।
বিস্ফোরণের ঘটনা বর্ণনা দিতে গিয়ে শরিফুল নামের এক যুবক বলেন, “বিকট শব্দে যখন বিস্ফোরণ হয়, তখন আশপাশে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়ে আগুন লেগে যায়। বিস্ফোরণের কারণে সেই ভবনের গ্লাসগুলো আমাদের পাশের ভবনে এসে পড়ে। ওই ভবনে যেসব সাইনবোর্ড ছিল, সেগুলো উড়ে এসে রাস্তায় আমাদের সামনে এসে পড়ে।”
বিস্ফোরণের সময় ওই পথ ধরে নামাজের জন্য পাশের মসজিদে যাচ্ছিলেন মো. মেজবাহ। তিনি জানান, হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারিদিক। কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। আতঙ্কের মধ্যেই দেখেন ফুটপাতে, রাস্তায় পড়ে আছেন অনেক লোক। তারা সবাই রক্তাক্ত। কেউ চিৎকার করছেন, কেউ নিথর
সংগৃহীতঅন্য একটি ভবনের দোকানের কর্মচারী তারেক বলেন, “যখন আহত লোকজনকে বের করা হলো, দেখলাম অনেকের হাতের অংশ ছিল না। অনেকের চেহারা বীভৎস হয়ে গিয়েছিল, চেনা যাচ্ছিল না।”
স্থানীয় বাসিন্দা গাজী আতাউর রহমান বলেন, “বিস্ফোরণের সময় তিনি আরেকটি মার্কেটে ছিলেন। ভবন কেঁপে ওঠার পর আতঙ্কে রাস্তায় নেমে দেখেন অনেক লোক কাতরাচ্ছে। কারও শরীরের কাপড় পুড়ে গেছে, কারও চামড়া উঠে গেছে।”
এদিকে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, পৌর ভবন নামের ওই বাণিজ্যিক স্থাপনার মালিক মৃত রেজাউল রহমান। এই ভবনের সঙ্গে লাগোয়া আরও তিনটি ভবন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো হলো- চায়না পয়েন্ট, কাদের ম্যানশন ও নামহীন একটি ভবন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেছেন, “এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ ঢামেক হাসপাতালে রয়েছে। লাশগুলো মর্গে রাখা হয়েছে।”
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন বলেছেন, “ভবনের বেজম্যান্টে কেউ আটক আছে কি-না তা এখনও বলা যাচ্ছে না। সাততলা ভবনটির নিচতলায় স্যানেটারির আটটি দোকান ছিল। ভবনটির সামনের চারটি কলাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজউক প্রকৌশলী ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে ভেতরে কেউ আটকে আছে কি-না এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে আমাদের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।”



